‘শিল্পীরা নিজের জায়গা থেকে এগিয়ে এলেই চলচ্চিত্রের উন্নতি হবে’

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৯      

এমদাদুল হক মিলটন

 নুসরাত ইমরোজ তিশা। অভিনেত্রী। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত 'হালদা' ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ২০১৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি

২০১৭ সালের সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছেন। সমকালের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। কেমন লাগছে?

বেশ ভালো। যে কোনো প্রাপ্তিই আনন্দের। তা যদি হয় রাষ্ট্রীয় কোনো পুরস্কার, তাহলে ভালো লাগার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। জাতীয় পুরস্কার অনেক সম্মানজনক বিষয়। প্রতিটি শিল্পীর জন্য এটি অনেক প্রতীক্ষিত। দ্বিতীয়বারের মতো পুরস্কার পাচ্ছি, তাই আনন্দও দ্বিগুণ। কৃতজ্ঞতা জানাই চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্যদের, পাশাপাশি হালদা ছবির নির্মাতা ও কলাকুশলীদের।

'হালদা' ছবিতে যখন কাজ শুরু করেছিলেন, তখন কি ভেবেছিলেন ছবিটি আপনাকে আরও একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেবে?

দেখুন, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য অভিনয় করি না। অভিনয় করি মনের আনন্দে। এই ছবির পরিচালক অভিনেতা তৌকীর আহমেদ যখন আমাকে হালদার গল্প শোনালেন, তখন আমার মনে হয়েছে ভালো একটি কাজ হতে যাচ্ছে। ছবিটি মুক্তির পর অনেকেই আমার অভিনয় দেখে বেশ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তখনও ভাবিনি যে, ছবিটি আমায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেবে। আমরা সবাই ভালো গল্পের ছবিতে অভিনয়ের চেষ্টা করেছিলাম।

আগামী শুক্রবার আপনার অভিনীত 'ইতি, তোমারই ঢাকা' মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবিটি নিয়ে বলুন?

এই ছবির মূল বিষয় রাজধানী ঢাকা। এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে ঢাকার নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপন, তাদের সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার নিরন্তর যুদ্ধ। সেইসঙ্গে ঢাকার নিজস্ব সংস্কৃতিও ফুটে উঠেছে ছবিতে। এটি বাংলাদেশের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় মিডিয়া কলাবোরেশন বলব আমি। ১১ জন পরিচালক, অর্ধশতাধিক অভিনয়শিল্পী এবং শতাধিক কলাকুশলীর সমন্বয়ে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। দেশের সিনেমার ইতিহাসে বড় পর্দায় এত বৈচিত্র্যময় প্রজেক্ট আগে দেখা যায়নি। কাজেই আমি মনে করছি, দর্শক নতুন কিছু দেখতে পাবে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর 'নো ল্যান্ডস ম্যান' ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন তো ছবি প্রযোজনা বেশ চ্যালেঞ্জিং। আপনার স্বামী বলেই...

ফারুকীর ছবি বলেই নয়, 'নো ল্যান্ডস ম্যান'-এর গল্পটির কারণেই এতে প্রযোজনা করতে রাজি হয়েছি। আর প্রযোজনা কঠিন কাজ- এটা মানতে নারাজ আমি। সারাবিশ্বে ছবির বাজার এখন ভালো। ভবিষ্যতে আরও ভালো হবে। আমি মনে করি, শিল্পীরা যদি নিজের জায়গা থেকে এগিয়ে আসেন, তবেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি সম্ভব। নিজেদের যদি ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ভালোবাসা না থাকে, তাহলে সাধারণ দর্শক কেন চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী হবে? এই ভাবনা থেকেই প্রযোজনায় আসা।

  -