দুই নির্ভীকের 'ন ডরাই'

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমু সাহা

শরিফুল রাজ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল -ছবি :হিমেল

দুপুরের রোদ তখনও আকাশের সবটা জুড়ে ছিল। তবে সে আলোয় আলোকিত হওয়ার তেমন একটা সুযোগ হয়নি। তার আগেই নিজ প্রতিভার আলো জ্বালিয়ে জ্যোতি ছড়ালেন শরিফুল রাজ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। গত সোমবার সমকাল প্রাঙ্গণে এসেছিলেন তারা। এসেই হন্তদন্ত হয়ে ছুটলেন ফটোশুটের জন্য। শুটের মাঝেই চলছিল দু'জনের খুনসুটি। যে কেউ দেখেই ভাববে- কতটা নির্ভার, জীবনের জটিল হিসাব-নিকাশকে তারা একদম পাত্তা দিতে চান না। সত্যিই তাই, এ দুই নির্ভীক যে জন্য জুটি বেঁধে অভিনয় করলেন আগামীকাল মুক্তি পেতে যাওয়া 'ন ডরাই' সিনেমাতে। বাংলাদেশে সার্ফিং নিয়ে নির্মিত এটিই প্রথম সিনেমা, যা পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত। 'ন ডরাই'-এর কলকুশলী, নির্মাণশৈলী, চিত্রনাট্য, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সবকিছুতেই রয়েছে নতুনত্ব। তবে ট্রেলার দেখে তা বোঝার উপায় নেই। নারী মুক্তির কথাই ছবিটির মূল প্রেক্ষাপট।

কিন্তু গল্পকে কীভাবে ভাঙাগড়া যায়, নতুন ধাঁচে বলা যায়, তা তানিম রহমান অংশু আগেও বিভিন্ন মাধ্যমে দেখিয়েছেন। এ ছবিতেও তিনি আরেকবার নিজেকে প্রমাণের ক্ষণ গুনছেন। তবে এত কিছুর ভিড়ে, অনস্ট্ক্রিনে সবার চোখ থাকবে এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা রাজ ও সুনেরাহর দিকে। আগামীকাল যে দু'জনই অগ্নিপরীক্ষা দিতে নামছেন। কিন্তু আগেই বলা হয়েছে, জীবনকে সরলরৈখিকভাবে দেখতেই পছন্দ করেন তারা। তাই পরীক্ষা শব্দটি ঠিক তারা মেনে নিতে রাজি নন। শরিফুল রাজ বলেন, তথাকথিত 'নায়ক-নায়িকা' তকমায় আমরা বিশ্বাস করি না। অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সে জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়েছি। বাকিটা দর্শকের হাতে। সিনে দুনিয়ায় সুনেরাহ ও রাজের পথচলা নতুন হলেও তাদের পরিচয় অনেক পুরোনো। বেশ কয়েক বছর আগে দু'জনেরই র‌্যাম্প দিয়ে মিডিয়ায় পদচারণা ঘটে। বিভিন্ন নামকরা ফ্যাশন হাউসের শুভেচ্ছাদূত হয়েছেন তারা।

রাজ মাঝে অবশ্য রেদওয়ান রনির পরিচালনায় 'আইসক্রিম' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। এ ছবিটিই তার জীবনের উদ্দেশ্যকে স্থির করে। বুঝতে পারেন সিনেমায় অভিনয়ে খুঁজে পাবেন পূর্ণতা। এরপর 'ন ডরাই'সহ কাজ করেছেন মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত 'হাওয়া' ও রায়হান রাফীর পরিচালনায় 'পরাণ' ছবিতে। শেষের দুটি সিনেমা আগামী বছর মুক্তি পাবে। অন্যদিকে সুনেরাহর শুরুটা নাচ শেখার মধ্য দিয়ে। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে নাচ শেখা শুরু করেন। স্কুলে থাকতে থিয়েটারেও অভিনয় করেছেন। বিটিভির তালিকাভুক্ত নৃত্যশিল্পীও ছিলেন। সেখান থেকে পরিচিতজনের মাধ্যমে র‌্যাম্পে পথচলা শুরু। এর মধ্যে ছোটপর্দায় অভিনয়ের অনেক ডাক পেলেও সাড়া দেননি। অপেক্ষায় ছিলেন একটি ভালো গল্পের সিনেমায় অভিনয়ের। লক্ষ্যে স্থির মেয়েটির ভাগ্যদেবতা পাশেই ছিল। সুনেরাহ নিজেও বিশ্বাস করেন তা। নাহলে প্রথম সিনেমাতেই মনের মতো ইউনিট ক'জনেরই মিলে। তিনি বলেন, 'ন ডরাই' সিনেমার প্রত্যেকেই ভীষণ মেধাবী। তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। সত্যি, এমন একটি সিনেমা দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখতে চেয়েছিলাম।'

'ন ডরাই'-এর প্রতি রাজ ও সুনেরাহর আত্মনিবেদন প্রশংসা করার মতো। উত্তাল সমুদ্র্রের বুকে সার্ফিংয়ের জন্য তাদের করতে হয়েছে কঠোর অনুশীলন। শহুরে আয়েশী জীবনযাপন ছেড়ে দীর্ঘদিন ছিলেন পরিবার থেকে দূরে। থেকেছেন কক্সবাজারের সাগরপাড়ে। এই সময়টাতে সেখানে ট্রেনিং করেছেন। স্থানীয় ভাষা থেকে শুরু করে তাদের জীবনযাপন কেমন, সেটা নিজেদের মধ্যে ধারণের চেষ্টা করেছেন। সত্যি, মেথড অ্যাক্টিং মেনে চলার এই প্রচলনটা আমাদের দেশে হরহামেশা চোখে পড়ে না। তবে কি বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির চিরায়ত প্রথা ভাঙার মিছিলে 'ন ডরাই' যুক্ত হতে যাচ্ছে? যার 'ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ' তানিম রহমান অংশু আর সারথি সুনেরাহ ও রাজসহ অন্য কলাকুশলীরা। উত্তরটা না হয় আগামীকালের জন্য তোলা থাক।