হাতের মুঠোয় স্বপ্নের তারকারা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২০     আপডেট: ১২ মে ২০২০   

বিনোদন প্রতিবেদক

চাইলেই যাকে হাতের কাছে পাওয়া যায় তার প্রতি আগ্রহ থাকে না। যা সহজে মেলে না তার জন্যই অপেক্ষা করে মানুষ, করে সাধনা। তেমনি সিনেমার তারকাদেরও সহজলভ্য হলে চলে না। টাকা দিয়ে টিকিট কিনে সিনেমার তারকাদের হলে গিয়ে দেখতে যান দর্শক।

সেই তারকাকে যদি যত্রতত্র পাওয়া যায়, তবে কেন পকেটের টাকা খরচ করে দেখতে যাবেন তারা। এটা সহজ হিসাব। ইন্ডাস্ট্রিতেও এ কথাটা চালু আছে বলেই সিনেমার তারকারা টিভিতে নিয়মিত হলে তার সমালোচনা চলে।

কিন্তু এ সময়টায় তারকাদের সহজলভ্য করে তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুকে সকাল-সন্ধ্যা দেখা যায় তারকাদের নানারকমের ছবি ও সেলফি। সেসব ছবিতে খুব সহজেই তারকাদের সান্নিধ্য পান সাধারণ মানুষ।

সুযোগ পান লাইক ও মন্তব্য করে তারকাদের সঙ্গে থাকারও। স্বাভাবিকভাবেই সেই তারকাদের প্রতি বাড়তি কোনো আকর্ষণ কাজ করে না। এতে করে কমছে তারকাদের ফেসভ্যালু, নীরব হুমকিতে পড়ছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। 

চিত্রনায়িকা মৌসুমী, শাবনূর ও শাকিব খান ফেসবুকে সহজলভ্য নন। তাদের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ দেখে অবাক হতে হয় হয়।  তিন তারকার  জন্য সাধারণ মানুষ বা দর্শকের পাগলামিটা কোন পর্যায়ের সেটা বাস্তবে না দেখলে অনুমেয় নয়। শুধু শাবনূর-মৌসুমীর, শাকিব খানরা সহজলভ্য নন বলেই এখনও জনপ্রিয় তারা। 

শাবনূর সিনেমায় নিয়মিত নন অনেকদিন ধরেই। তবু তারকাখ্যাতিতে ভাটা পড়েনি। এখনও দর্শক-ভক্তদের আগ্রহে তিনি। কারণ শাবনূরের দেখা যত্রতত্র মেলে না। ইচ্ছা করলেই শুনতে পাওয়া যায় না তার কথা।

একইভাবে মৌসুমী যত্রতত্র নন। টিভিতে মাঝেমধ্যে তাকে দেখা গেলেও সেটি নিয়মিত নয়। রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খানদের বেলাতেও একই ঘটনা। সিনেমায় আগের মতো নিয়মিত না হলেও সাধারণ মানুষের আগ্রহে রয়েছেন তারা।

গেল কয়েক বছরে এসব তারকাদের তেমন কোনো সিনেমা নেই। যে কয়টি মুক্তি পেয়েছে মানে ও গুণে সেগুলো সমালোচনাতেই থাকবে। তবুও দর্শক সেসব ছবির প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন কেবল শাবনূর, মৌসুমী, রিয়াজ, ফেরদৌসরা ছিলেন বলে।

অন্যদিকে শাকিব খান তো হালের সেরা তারকা। তার বেলাতে মানুষের আগ্রহের গল্পটা আরও ভিন্ন। তারা সিনেমা হলে এলে উৎসব আমেজ নামে। তার একটি অনুষ্ঠান টিভিতে প্রচার হলে সেটি টিআরপি রেটিংয়ের শীর্ষ তালিকায় থাকে। যেখানেই তিনি যান সেখানেই জমে যায় মানুষের মেলা। কারণ সহজলভ্য নন তিনি।

কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, গেল কয়েক বছরে ঢাকাই ছবির নতুন প্রজন্মের তারকারা সেই ক্রেজ, সাধারণ মানুষের ভিড়, দর্শকদের আগ্রহে থাকায় অনেকটাই পিছিয়ে। কারণ সহজলভ্যতা।

আজকাল যেখানে সেখানেই দেখা মিলছে তারকাদের। কফিশপে, রেস্তোরাঁয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনীতে। আর বিশেষভাবে তারকাদের কাছে পাওয়া খুব সহজ করে দিয়েছে ফেসবুক। ফেসবুকের মেসেঞ্জারে নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন তারা। খোলা হচ্ছে ফ্যান ক্লাব। অথচ ফেসবুকের বাইরে বাস্তব জীবনে তাদের নেই কোন পরিচিতি বা ফ্যান। 

সামাজিক যোগাযোগের অনেক মাধ্যম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তবে বাংলাদেশের মানুষ ফেসবুকেই আসক্ত। সাধারণদের মতো সিনেমার অনেক তারকারও রয়েছে আসক্তি। ফেসবুক সময়ের দাবি। তার সুবিধা একজন আধুনিক মানুষ হিসেবে নেয়াটাই স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে নামিদামি সব তারকাই ফেসবুক ব্যবহার করেন। কিন্তু আমাদের দেশের তারকাদের মতো ফেসবুকটাকে নেশা বানিয়ে ফেলেননি।

নতুন প্রজন্মের অনেক তারকা রয়েছেন যারা অনেক জনপ্রিয়, ফেসবুকে লাখ লাখ ভক্ত। কিন্তু তাদের সিনেমা মুক্তি পেলে দর্শক হলে যায় না। 



বিষয় : বিনোদন