ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

হজমের সমস্যায় ভুগছেন ?

হজমের সমস্যায় ভুগছেন ?

ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৬:৫০

হজমের সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। বাঙালি যেমন ভোজনরসিক, তেমনই পাল্লা দিয়ে পেটরোগাও। ‘পেটরোগা বাঙালি’ তকমা তাই আজকের নয়। কখনও একটু বেশি খেয়ে ফেললে কিংবা তেল-মসলার পরিমাণ সামান্য এদিক-ওদিক হলে হজমের সমস্যায় পড়েন অনেকেই। চিকিৎসকদের মতে, খুব বেশি ওষুধনির্ভর হয়ে পড়লে একটা সময়ে ওষুধ ছাড়া হজম করাই মুশকিল হয়ে পড়বে। এ ছাড়া ঘন ঘন গ্যাস-এর ওষুধ নানা ক্রনিক অসুখকে ডেকে আনে। তাই সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক উপায়ে হজম ক্ষমতা বাড়ানো ও হজম উপযোগী খাবার খাওয়াই প্রয়োজন।
খাওয়ার পাতে কিছু স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও কয়েকটি কৌশল মেনে চললেই হজমের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন সহজেই। দেখে নিন সেসব সহজ উপায়। হজমশক্তিকে বাড়ানো বা শক্তিশালী করার বিষয়টি একটু জটিল। কারণ সব মানুষের হজমশক্তি এক ধরনের হয় না। একই ধরনের খাবার অনেকে হজম করতে পারে আবার অনেকে পারেন না।
সেক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে খাবারের প্রতি সহনশীলতা পর্যবেক্ষণ করে তারপর কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজতর করে। সুস্বাস্থ্যের জন্য হজমশক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি বাধাগ্রস্ত হলে বা কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে পুরো দেহই স্থবির হয়ে পড়তে পারে। শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন না হলে তা পুরো দেহকেই প্রভাবিত করে। একটা খাবারের সঙ্গে আরেকটা খাবার মিলে শোষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এটি বাধাগ্রস্ত হলে ওজন বেড়ে 
যাওয়া, লিপিড প্রোফাইল বেড়ে যাওয়া, ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
হজম প্রক্রিয়ার তিনটি ধাপ থাকে। এগুলো হচ্ছে– কী খাবার খাওয়া হচ্ছে সেটা, সেই খাবার পরিপূর্ণভাবে হজম হওয়া এবং হজমের পর সেটা দেহে শোষণ হওয়া। এই তিনটি ধাপই দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 
১) খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান? তাড়াহুড়োয় কোনো ক্রমে খেয়ে ফেলে কাজে দৌড়ানোর স্বভাব অনেকেরই আছে। খাবার ভালো করে চিবোলে তাতে নানা উৎসেচক যোগ হয়ে খাবারকে সহজপাচ্য করে তোলে। তাই সময় হাতে নিয়ে খেতে বসুন।
২) গ্রিন টি খান। হজম-সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে গ্রিন টি। এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হজমের উৎসেচকগুলোর কার্যকারিতা বাড়ায়। পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
৩) ঝাল-তেল-মসলা এড়িয়ে চলুন। একান্তই ঝাল খেতে হলে কাঁচা লঙ্কার ঝাল খান। শুকনো লঙ্কা একেবারেই নয়। কাঁচা লঙ্কার ক্যাপসাইসিন হজমক্ষমতা বাড়ায়।
৪) মাংস খেয়েই দুধ, ভাতের পরেই ফল, ভাজাভুজি খেয়েই পানি— এসব খাবেন না। এতে হজমের সমস্যা হতেই পারে।
৫) প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা পারবেন এড়িয়ে চলুন। খাবার যখনই টিনের শিশিতে ভরা হয়, তখন অনেক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে হজমের সমস্যা পাশাপাশি পরিপাকতন্ত্র তার কর্মক্ষমতা হারায়।
৬) শরীরে পানির ঘাটতি হলেও বদহজমের সমস্যা হতে পারে। তাই দিনে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
৭) পুষ্টিবিদদের মতে, যারা হজমের সমস্যায় ভোগেন, তারা সকালে ভারী নাশতা করুন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার পরিমাণ কমান। রাতের খাবার ৮টার আগেই সেরে ফেলুন। খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাবেন না। v
 

আরও পড়ুন

×