চামড়ার দরে কারসাজি :দায় কার

সরকারের মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয়নি

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

কোরবানির কাঁচা চামড়া নিয়ে এ বছর যে কারসাজি হয়েছে, তার জন্য সরকার ও নীতিনির্ধারকরাই প্রধানত দায়ী বলে মনে করছেন ঢাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি সমকালকে বলেন, কয়েক বছর ধরেই চামড়াশিল্প গভীর সংকটে। এ নিয়ে সরকার বা সংশ্নিষ্টদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয়নি। এ খাত নিয়ে সরকারের নীতি-পরিকল্পনা আছে শুধু মুখে বা কাগজে, বাস্তবে নেই।

সেলিম রায়হান বলেন, দেশের রফতানি বাণিজ্যে এ খাত অনেক সম্ভাবনাময় হলেও তা কাজে লাগাতে সরকারি পর্যায়ে বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে এখন থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাত করা এবং শিল্পে ব্যবহার পর্যন্ত নীতি-পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হবে। এখন যেভাবে চলছে সেভাবে চলতে দিলে অচিরেই খাতটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাবে।

সেলিম রায়হান বলেন, সন্দেহ নেই, কাঁচা চামড়ার দর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পেছনে এক ধরনের কারসাজি হয়েছে। নিজের দোষ ঢাকতে এখন এক পক্ষ অন্য পক্ষের ওপর দায় চাপাচ্ছে। কিন্তু এরই মধ্যে পুরো বছরের জোগানের প্রায় ২৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চামড়ার দাম না পেয়ে সাধারণ মানুষ অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছে। তারা তাদের চামড়া পুঁতে ফেলেছে বা নদীতে ফেলে দিয়েছে। এটা সরকারের জন্য সতর্কবার্তা। ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতি হলে এমন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী কারা, কার জন্য দেশের এত বড় ক্ষতি হলো, তা না খুঁজে ত্বরিত সমাধানের উদ্দেশ্যে সরকার রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি একেবারেই সুচিন্তিত নয়। কারণ কে রফতানি করবে, কোথায় রফতানি হবে- তার কিছুই পরিস্কার নয়। এর আগে কৃষককে ভালো দাম পাইয়ে দিতে চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই রফতানি কিন্তু হয়নি। মনে হচ্ছে সরকার এবারও একই পথ ধরেছে।

চামড়া খাতে এই যে বিপর্যয় অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এ খাতে না হয়ে তৈরি পোশাক শিল্পে হলে দেশের মধ্যে হৈচৈ লেগে যেত বলে মনে করেন সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, পোশাক খাতে এমন পরিস্থিতি হলে অন্তত দশটি প্রভাবশালী মহল সংকট মোকাবেলায় মরিয়া হতো। চামড়া খাতের জন্য তেমন প্রভাবশালী মহল নেই।