চামড়ার দরে কারসাজি :দায় কার

এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন ট্যানারি মালিকরাই

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচার আগে আড়তদারদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেননি ট্যানারি মালিকরা।

এর ফলে অর্থ সংকটের কারণে প্রথম ধাপে চামড়ার দাম কমে দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমকালকে তিনি বলেন, বকেয়া টাকা না দিয়ে চামড়া কেনায় কারসাজির জন্য আড়তদারদের ওপর শুধু শুধু দায় চাপাচ্ছেন ট্যানারি মালিকরা। তারা পাওনা টাকা দিতে না পারায় আড়তদারদের সঙ্গে এবার যোগাযোগ পর্যন্ত করেননি। অন্যান্য বছর ঈদের আগের দিন আড়তদারদের সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার তারা ধারেকাছেও আসেননি। এ অবস্থায় আড়তদাররা শঙ্কার মধ্যে পড়ে যান। সব মিলিয়ে চামড়ার দর অনেক কম হয়েছে। ট্যানারি মালিকরাই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, ট্যানারি মালিকরা টাকা দিলে আড়তদাররা ঠিকই ভালো দামে চামড়া কিনতেন। ট্যানারি মালিকরা ৬১০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আড়তদারদের পাওনা পরিশোধ করেননি। তাহলে কীভাবে আড়তদাররা নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনবেন। গত কয়েক ঈদের চামড়ার দাম এখনও পরিশোধ করেননি অনেকে। একটি ট্যানারির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। ওই ট্যানারি আদালতে পাওনা পরিশোধের অঙ্গীকারনামায় সই করলেও এখন পর্যন্ত টাকা দেয়নি। ট্যানারি মালিকদের কারণে গত দুই বছর লোকসানে পড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও এবার তেমন চামড়া কেনেননি। ক্রেতা সংকটে চামড়ার দর পড়ে গেছে।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত বছর ট্যানারি মালিকরা ঈদের সময় আড়তদারদের প্রায় ২০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন। এবার তারা মাত্র ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা দিয়েছেন। ফলে বাজারে নগদ অর্থের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অর্থের সংকটের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়নি। এ কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের আগে ট্যানারি মালিকরা আড়তে এসে ঘুরে যান। তেমনি জেলায় জেলায় ঘুরেও চামড়া কেনার বিষয়ে আলোচনা করেন। এবার তারা আগে না আসায় প্রাথমিক পর্যায়ে চামড়া কিনতেই ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের আগে টাকা না দেওয়ায় সারাদেশের ক্ষুদ্র আড়তদারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঢাকার পরিস্থিতি ভালো নেই। তাদের স্থানীয় পর্যায়ে চামড়ায় লবণ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিষয় : চামড়ার দরে কারসাজি