নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এলোপাতাড়ি গুলি করে এক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিতে আহত ছাত্রলীগ নেতার নাম করিম উদ্দিন শাকিল (২৫)। তিনি বসুরহাট পৌর ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া মহল্লার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে। তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে আওয়ামী লীগের দু'পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও কাদের মির্জার ভাগ্নে মাহাবুবুর রশিদ মঞ্জু এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মঞ্জু বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আমাকে ও আমার খালাতো ভাই রাহাত এবং ছাত্রলীগ নেতা শাকিলকে হত্যার হুমকি দেয় কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেল। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেচ্ছা রাসেলের নেতৃত্বে কাদের মির্জার ৩৫-৪০ জন অনুসারী মিস্ত্রি বাড়িতে শাকিলকের ওপর হামলা চালায়। কেচ্ছা রাসেল শাকিলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে গুলি লাগে তার দুই পায়ে।

মঞ্জু অভিযোগ করেন, কাদের মির্জার অনুসারী ক্যাডারদের মধ্যে কেচ্ছা রাসেল অন্যতম। কাদের মির্জা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে কেচ্ছা রাসেলসহ তার অনুসারী একদল অস্ত্রধারী বসুরহাট পৌরসভার তৃতীয় তলায় বসবাস করছে।

আহত শাকিলের বাবা মোহাম্মদ সেলিম মিয়া জানান, কাদের মির্জার ভাগ্নে ফখরুল ইসলাম রাহাত ও মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী শাকিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বন্ধুর মায়ের জানাজা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন শত্রুতার জেরে কেচ্ছা রাসেল ও পিচ্চি মাসুদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শাকিলের ওপর হামলা চালায়। গুলিতে তার দুই পা ঝাঁজরা হয়ে গেছে। তিনি ছেলের ওপর হামলাকারীদের বিচার চান।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ ফরহাদ লিংকন এ হামলার নিন্দা জানিয়ে কেচ্ছা রাসেলকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে কাদের মির্জার ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুলের মোবাইল নম্বরে একাধিকার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। কাদের মির্জার পক্ষের অন্য কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুদ্দিন আনোয়ার।