সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নন্দিতা সুরক্ষা’। বুধবার দুপুরে শহরতলীর বিলমামুদপুরে উঠান বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ কর্মসূচির সমাপনী হয়।

‘নন্দিতা সুরক্ষা’র সভাপতি তাহিয়াতুল জান্নাত রেমির সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুপ্তি সাহা, যুগ্ম সম্পাদক নাফিসা হক, অর্থ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু, প্রচার সম্পাদক মারিয়া মিজানসহ স্থানীয় নারীরা।

এক মাস যাবত ফরিদপুর জেলার বিলমামুদপুর, চরকমলাপুর, চরমাধবদিয়া, আলিয়াবাদ, ডিক্রিরচরসহ সদর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ৩০০ জন নারীর মাঝে এক বছরের রিইউজএবল স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রদান, সচেতনতামূলক সভা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তা প্রদানের কাজ করে সংগঠনটি।

সংগঠনটির সভাপতি তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন ‌' আমরা ফরিদপুর জেলার ৩০০ গ্রামীণ, প্রান্তিক বিদ্যালয়ে যাওয়া কিশোর -কিশোরী এবং নারীরে এক বছরের ব্যবহারের জন্য স্যানিটারি প্যাড দিয়েছি এবং তাদের মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করেছি।স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদেরকে ডাক্তারের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যৌন সহিংসতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা ও আইনি পরামর্শ সভা করেছি '।

তিনি আরও বলেন, গত তিন বছর যাবৎ আমরা কিশোরীদের নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে
কাজ করেছি । তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই কাজে অর্থায়ন করেছে বি আর টি ইউ কে এবং গ্লোবাল ফাউন্ডেশন । এটা আমাদের কর্মকাণ্ডে একটা নতুন মাত্রা যোগ করলো। আশা করি আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রেমি জানান, জরিপে ৪০ শতাংশ ছাত্রী জানায় , মাসিকের কারণে গড়ে মাসে তারা তিন দিন স্কুলে যেতে পারে না৷ ফলে তারা শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে এবং তাদের কর্মদক্ষতা হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে গ্রামীন নারীরা অস্বাস্থ্যকর ঋতুস্রাব ব্যবস্থাপনার জন্য নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং পরিবার থেকে অবহেলিত হচ্ছে। এখনো গ্রামীন প্রান্তিক নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে ভাবনাকে বিলাসিতা ভাবেন তাদের পরিবার ।

রেমি আরও জানান, তাদের এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীন নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা প্রদান এবং তাদেরকে সচেতন করা। এর পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্শপে লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, ঋতুস্রাবকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধ, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি এবং তাদের আইনগত সহায়তা প্রদান করেছেন তারা। মূলত নারীদের
শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে সফলতার সাথে শেষ হয়েছে নন্দিতা সুরক্ষার 'ডিগনিটি প্যাড ডিস্ট্রিবিউশন' প্রজেক্ট।