অস্থিরতা চলছে শেয়ারবাজারের লেনদেনে। টানা পাঁচদিনের দরপতনের পর সোমবার ষষ্ঠ দিনেও বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। বেশিরভাগ শেয়ারের দর হারানোর বিপরীতে কারসাজি চক্রের কিছু শেয়ারের দর বাড়ছে। কিন্তু বৃহৎ মূলধনী কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদরের ওঠানামায় বড় ধরনের উত্থান-পতন দেখা যাচ্ছে বাজার মূল্য সূচকে।

সোমবার দুপুর ১২টায় দিনের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭১৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

আজ সকাল ১০টায় দিনের লেনদেনের শুরুতে ডিএসইএক্স ৭ হাজার ১৮৬ পয়েন্ট থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রি-ওপেনিং সেশনে শেয়ারদর কেনাবেচায় ভর করে প্রথম মিনিটেই সূচকটি গতকালের থেকে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭২০৩ পয়েন্ট ছাড়ায়। কিন্তু পরের ২০ মিনিটে ওই অবস্থান থেকে ৬৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৭১৪০ পয়েন্টে নামে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত সূচকের এমন বড় ধরনের ওঠানামা অন্তত দুই দফায় হয়েছে। গতকালও শেয়ারদর ওঠানামায় এমন অস্থিরতার কারণে দিনের শুরুতে সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে পওে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়েছিল। অর্থাৎ সূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ পতনের ব্যবধান ছিল ১১৩ পয়েন্ট।

আজ দুই ঘণ্টার লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১০২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডকে দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ২২৬ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ৪৫টি শেয়ার কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময় ব্যাংক এবং বীমা খাতের মিশ্রধারা ছিল, অর্থাৎ দর হারানো ও দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। বিপরীতে প্রকৌশল, বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়নসহ বেশিরভাগ খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

তবে এর মধ্যেও ওরিয়ন ফার্মা, লাফার্জ-হোলসিম, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সাউথবাংলা ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, ফরচুন সুজ, ন্যাশনাল হাউজিং, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী পেপারসহ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব শেয়ার নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে কারসাজি চলছে। গত কয়েকদিন ধরে কারসাজির চক্র নিজেদের মধ্যে উচ্চ মূল্যে শেয়ার কেনাবেচা করে শেয়ারগুলোর দর বাড়াচ্ছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এসব শেয়ারে বিনিয়োগে প্রলুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।

এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী সমকালকে জানান, আলোচিত শেয়ারগুলো গুটিকয়েক ব্রোকারেজ হাউসে এবং কিছু ব্যক্তির বিও অ্যাকাউন্টে ক্রমাগত কেনাবেচা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সার্কুলার ট্রেড হচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

চলতি অস্থিরতা বিষয়ে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে অনেক শেয়ারের বাজারদর যৌক্তিক সীমার তুলনায় রাতারাতি অনেকটাই বেড়ে গেছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুটা অস্থবিরতা আসার কারণে অনেক ব্যবসায়ী তাদের অলস টাকা শেয়ারবাজারে খাটিয়ে ছিলেন।

এখন একদিকে শেয়ারগুলোর অসাম্ভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরায় ব্যবসায়িদের অনেকে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করছেন। এতে একদিকে শেয়ারের ক্রয় চাহিদা কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে বিক্রির চাপ। চলতি দরপতনের এটা কারণ হতে পারে।

তবে মধ্যমেয়াদে সূচককেন্দ্রীক মার্জিন ঋণ নীতিমালাও শেয়ারবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলে মত বাজার সংশ্লিষ্টদের।