বন্ডে বিনিয়োগ শেয়ারবাজার এক্সপোজার থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাজার মূল্যে হিসাব করা হবে—মর্মে কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, শেয়ারবাজারে তফসিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১৯৯৩-এ শেয়ারবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়ে বিএসইসির প্রতিনিধি দলকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সভার পরে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ওই সভার কতিপয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বিএসইসির সঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত এ সভা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বিএসইসির উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের ফলে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন এবং পুঞ্জিভূত লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্নিষ্ট বছরের মুনাফা হতে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৩৫(১)(গ) ধারা ও ২২ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ১০ ধারার বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অদাবিকৃত তহবিল স্থানান্তর এবং পুঞ্জিভূত লোকসান থাকা সত্ত্বেও নগদ লভ্যাংশ দেওয়া আইনসম্মত নয় বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নানা ইস্যুতে গত ২১ নভেম্বর থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা আট কার্যদিবস ধরে দরপতন হয়েছে শেয়ারবাজারে। এতে ৯০ শতাংশেরও বেশি শেয়ার দর হারায়। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সের ৩৮৮ পয়েন্ট বা সাড়ে ৫ শতাংশ পতন হয়।

কিন্তু অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং বিবদমান কয়েকটি ইস্যুতে সংশোধন আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজি হয়েছে— এমন খবর প্রচারের পর বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৩ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৯৩টিরই বাজার দর বেড়েছে, কমেছে মাত্র ৪৫টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে ৩৫টির।

এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩.৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৮৪৭ পয়েন্টে গিয়ে দাঁড়ায়। তবে শেয়ার লেনদেন ৪৪ কোটি টাকা কমে এক হাজার ১০২ কোটি টাকায় নেমেছে।