শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের বৈঠকের নানা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয় মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দেশের শেয়ারবাজারের দিনের লেনদেন শুরুই হয়েছিল ব্যাপক দরপতনে। অবশ্য পতন ঠেকাতে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি শ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রাসী শেয়ার ক্রয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

দিনের লেনদেন শুরুর দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৭ পয়েন্ট কমে ৬৮১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। যদিও সকালের ওপেনিং সেশনের লেনদেনে ভর করে ১০টায় গতকালের তুলনায় ৮৬ পয়েন্ট হারিয়ে ডিএসইএক্স সূচকের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সূচকটি নেমেছিল ৬৭৬১ পয়েন্টে।

পরের তিন মিনিটে আরো কিছু শেয়ার আরো কিছুটা দর হারানোয় ৯০ পয়েন্ট হারিয়ে সূচকটি ৬৭৫৭ পয়েন্ট পর্যন্ত্ম নেমেছিল।

বিবদমান কিছু ইস্যু সমাধানে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে- বিএসইসির শীর্ষ এক কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তা অস্বীকার করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার খবরে আজকের লেনদেনের এ অবস্থা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজকের সূচকের পতনের বড় কারণ ছিল বেপিমকো লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ, আইএফআইসি ব্যায়কসহ বৃহৎ বাজার মূলধনী কিছু শেয়ারের দরপতন। অবশ্য বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনও পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলছে।

অন্যতম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও বেলা সাড়ে ১১টায় এ বাজারে ৯৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড গতকালের তুলনায় দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ২০৮ শেয়ার ও ফান্ড। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় দেখা গেছে ৫৪টিকে।

এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে ৩৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৯৩টির বা ৭৮ শতাংশের বেশি শেয়ারের দর বেড়েছিল। এতে ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছিল ১৪৩ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১০২ কোটি টাকার শেয়ার।

অবশ্য তার আগের আট কার্যদিবসে ৯০ শতাংশের বেশি শেয়ারের দরপতনে সূচকটি ৩৮৮ পয়েন্ট হারিয়েছিল।