বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বের হচ্ছে। এসব অর্জনে সরকারের নীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে উন্নয়ন টেকসই করতে হলে ব্যবসায়ীদের আরও অবদান রাখতে হবে। পণ্যের বহুমুখীকরণে যেতে হবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার ২০১৮ সালে রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য যেসব রপ্তানিকারক বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের 'সিআইপি কার্ড' বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ১৮ খাতের ১৩৮ জন ব্যবসায়ীকে সিআইপি (রপ্তানি) কার্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর ওই সময়ের পরিচালনা পর্ষদের ৩৮ জনকে সিআইপি (ট্রেড) কার্ড দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের হাতে কার্ড তুলে দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছ থেকে সিআইপি কার্ড নেন শারমিন অ্যাপারেলসের এমডি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ছবি: সমকাল

তৈরি পোশাক, কাঁচা পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চামড়াজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, ফেব্রিক্স, স্পেশালাইজড টেপটাইল ও হস্তশিল্প, কম্পিউটার সফটওয়্যার, সেবাসহ আরও কয়েকটি খাতের রপ্তানিতে বিশেষ অবদান রাখায় এসব ব্যবসায়ীকে সিআইপি নির্বাচিত করা হয়েছে। যারা সিআইপি কার্ড পেয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন, বেঙ্গল গ্রুপের এমডি ও এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, হা-মীম গ্রুপের এমডি ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ, এনভয় গ্রুপের এমডি সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, মীর টেলিকমের এমডি ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের এমডি অঞ্জন চৌধুরী, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, আকিজ জুট মিলসের চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন, পিকার্ড বাংলাদেশের এমডি ও এমসিসিআই সভাপতি সাইফুল ইসলাম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান স্যামুয়েল এস চৌধুরী, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি নাজমুল হাসান পাপন, এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ, নোমান গ্রুপের এমডি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ জুবায়ের, ডিবিএল গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহিম, সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেডের এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম, ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের এমডি ও বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, শারমিন অ্যাপারেলসের এমডি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ভিয়েলাটেপের পরিচালক কানিজ ফাতেমা জেরিন, বিএসআরএম স্টিলসের এমডি আমের আলী হুসাইন, বাদশা গ্রুপের এমডি বাদশা মিয়া প্রমুখ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন রপ্তানি নীতিতে ৮০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন মোটেই অস্বাভাবিক নয়। চীন, ভিয়েতনাম থেকে ব্যবসায়ীরা আসছেন। নতুন কিছু ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে। ফলে রপ্তানি বাড়বে। কিন্তু এ জন্য পণ্যের বহুমুখীকরণ দরকার। প্রধানমন্ত্রী সব সময় এ কথা বলে আসছেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের পর উন্নত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ব্যবসা করতে হবে। এ জন্য প্রস্তুতি দরকার। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা বাড়াতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির কাছ থেকে এফবিসিসিআই পরিচালক হিসেবে সিআইপি কার্ড নেন শমী কায়সার, ছবি: সমকাল

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রপ্তানি খাতের কারণে দেশে কর্মসংস্থান বাড়ছে। বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি। তবে করোনার কারণে এ খাত নানা সমস্যায় রয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ীর ঋণকে খেলাপি করা ঠিক হবে না। ঋণ পরিশোধের সময় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো দরকার।

তিনি বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবসার খরচ কমাতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি এফবিসিসিআইর পরিচালকদের জন্য সিআইপি কার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। এ ছাড়া রপ্তানি ক্যাটাগরির সিআইপিদের পক্ষে পিকার্ড বাংলাদেশের এমডি সাইফুল ইসলাম ও ট্রেড ক্যাটাগরির সিআইপিদের পক্ষে নাজ ফারহানা আহমেদ বক্তব্য দেন।