এটিএম কার্ড ক্লোন করে অর্থ আত্মসাতে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের হোতা হাকান জানবারকানের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত রয়েছে অন্তত ছয়টি দেশে। এর মধ্যে মেক্সিকো, বুলগেরিয়া ও তুরস্ক থেকে সহযোগীরা তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়। আর বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলেন হাকান। তার কাছে পাওয়া গেছে ৯৯ বিদেশি নাগরিকের ক্লোন করা কার্ড। সেগুলোর প্রতিটি দিয়ে অন্তত একবার করে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথ থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করা হয়। এর বাইরে আরও অন্তত তিনটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন হাকান। পাঁচ দিনের রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার মাহফুজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, তুরস্কের নাগরিক হাকান জানবারকানকে জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি তার দুটি পাসপোর্ট ব্যবহার করে একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন। বিভিন্ন দেশে তার সহযোগীরা ছড়িয়ে আছে। তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় পুলিশের হেফাজত থেকে পালানো হাকানকে ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর থেকে বাংলাদেশি এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

তদন্ত সূত্র জানায়, বুলগেরিয়ার কিছু ওয়েবসাইট থেকে অবৈধভাবে সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য কেনা যায়। সেখান থেকে ৩৯ দেশের নাগরিকের এটিএম কার্ডের তথ্য কেনে এই চক্রটি। পরে নতুন কার্ডে সেসব তথ্য যুক্ত করা হয়। ফলে ক্লোন করা এই কার্ড দিয়ে আসল হিসাবধারীর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার সুযোগ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াতেই তারা অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। বুলগেরিয়ার নাগরিক আলেকজান্ডার, তুরস্কের ইমরাহ ও মেক্সিকোতে অবস্থান করা ভারতীয় নাগরিক রোমেল এই কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জালিয়াতিতে সহায়তা করে। পরে সেসব কার্ড অবৈধ উপায়ে পাঠানো হয় হাকানের কাছে। বাংলাদেশি দুই ভাই শহিদুল ইসলাম ও মফিউল ইসলাম এবং ভারতের নাগরিক সাকিব ও সাবের এই চক্রের অন্যতম সহযোগী। এর বাইরে পাকিস্তানেও হাকানের যাতায়াত আছে। সে ব্যাপারে পাসপোর্ট থেকে তথ্য মিললেও তার ওই দেশের সহযোগীদের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। হাকান একই সঙ্গে দুটি বৈধ পাসপোর্ট বহন করেন।

সিটিটিসির ইকোনমিক ক্রাইম অ্যান্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার তোহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন বুথ থেকে ২-৪ জানুয়ারি অন্তত ৯৯ বার ক্লোন করা কার্ড দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা চালান হাকান। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে হাকানের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।