সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলারে জানিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে ব্যক্তিগত ভ্রমণ জরুরি হলে ব্যাংক কর্মকর্তারা বিদেশে যেতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, পবিত্র হজ পালন ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যাংক কর্মকর্তারা বিদেশে যেতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশে অবস্থিত ব্যাংকে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা তার নিজ দেশে যেতে পারবেন। পাশাপাশি বিদেশি ব্যাংকের বাংলাদেশস্থ শাখায় কর্মরত কর্মকর্তারা প্রধান কার্যালায়ে যেতে পারবেন। এছাড়া বিদেশি আয়োজক সংস্থার সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও স্টাডি ট্যুরেও ব্যাংক কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারে জানায়, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ভ্রমণসহ প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও স্টাডি ট্যুর পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ওই সার্কুলারে আরও বলা হয়, করোনার প্রভাব মোকাবিলা করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং বহির্বিশ্বে যুদ্ধাবস্থার কারণে বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ সুসংহক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সরকারের অর্থ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করে সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ স্থগিত করা হয়।

বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমদানি বাবদ প্রচুর ব্যয় হচ্ছে। দেশে ডলারের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত সাড়ে ৫০০ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ অবস্থায় সরকার বিভিন্নভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে চাচ্ছে। বিলাস পণ্যের আমদানি কমাতে এলসি মার্জিন বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের বিষয় রয়েছে, সেগুলো দেরিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের পরিমাণ প্রায় চার হাজার ২০০ কোটি ডলার, যা দিয়ে সাড়ে চার মাসের আমদানি দায় মেটানো যাবে। গত বছরের ১৯ আগস্ট বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ছিল চার হাজার ৮০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে আসছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে লাগাম টানার চেষ্টা করছে।