চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারটি বর্তমানের স্থান থেকে সরিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ওই এলাকায় একটি ইকোপার্ক, স্টডিয়াম, বেতার ভবন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল, আইকনিক মসজিদ, বেতার ভবন, জাতীয় তথ্য কেন্দ্র, নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শুক্রবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ি এলাকাটি পরিদর্শন করেন তথ্য মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এসময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহামুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহর পাহাড় সমুদ্র বেষ্টিত অপূর্ব একটি শহর। কিন্তু দিনে দিনে এটির সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরে আমরা ছোট বেলায় যখন স্টেডিয়ামে খেলা দেখেছিলাম তখন খেলার ধারাভাষ্যকার বলতো চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম একটি অপূর্ব সুন্দর জায়গায় অবস্থিত। স্টেডিয়াম থেকে দেখা যাচ্ছে পাহাড়ে চূড়ায় ছোট ছোট বাঙলো। পাহাড়ে অনেক বাঙলো ছিলো। কিন্তু এখন অনেক বাঙলো কমে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন অনেক পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। এখানে পুরো জায়গাটায় পাহাড় ছিলো। পরে বিভিন্ন সমিতির নাম ব্যবহার করে নির্বিচারে পাহাড়গুলো কাটা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার জন্য দেশের যে বর্ধিত চাহিদা রয়েছে সেই চাহিদা সম্পূর্ণ করতে বিভিন্ন স্থপনা শহর থেকে সরিয়ে আনতে হবে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক দ্রুত খুঁজে খাস জমি বের করেছে। সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে ওইসব স্থাপনা হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও খুলনা বেতার কেন্দ্র ১০০ কিলোওয়াট করে। খুলনা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামেও শোনা যায়। অথচ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ফেনীর পরে শোনা যায় না। তাই চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রটিও সরিয়ে আনতে হবে। বর্তমানে পাহাড়ে যারা বসবাস করছেন তাদের সবাইকে পুনর্বাবাসন করা হবে। নতুন করে কেউ যেন আর পাহাড় না কাটে এবং বসতি গড়ে না উঠে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে যেহেতু সরকারি খাস জায়গা আছে তাহলে সরকারের আর ভূমি অধিগ্রহণ করা লাগবে না। সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে তিনগুণ দাম দিতে গিয়ে সরকার অনেক রাজস্ব হারাচ্ছে। এখানে কোনো স্থাপনা গড়ে উঠলে সরকারকে আর কোনো টাকা দিতে হবে না।’

চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘এখানে যে কোনো সময় পাহাড় ধসে পড়তে পারে। চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার জন্য মহাপরিকল্পনা রয়েছে। এখানে ২ হাজার একর জায়গায় আন্তর্জাতিক মানের একটি কনভেনশন হল, স্পোর্ট জোন স্টেডিয়াম করা যায় তাহলে চট্টগ্রামকে অপরূপ ভাবে গড়ে তোলা যাবে। ৩৬ একর জায়গায় পার্কসহ অন্যান্য স্থাপনা করে একটি পর্যটক শিল্পও গড়ে তোলা যাবে।’

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ে আর যেন কোনো আঁচড় না লাগে সেজন্য আমরা সতর্ক রয়েছি। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুরো এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে। কিন্তু পাহাড়ের আদল পাল্টাবে না। আমরা পাহাড়, পরিবেশ এবং প্রতিবেশকে অক্ষুণ্ন রেখেই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’