ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

চলতি অর্থবছরের সাড়ে তিন মাস

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিক্রি চার বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিক্রি চার বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ২২:৩৫

বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে কোনো ব্যাংক মোটাদাগে যেন আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে ব্যর্থ না হয়, সে জন্য ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বিক্রি বাড়ানো হয়েছে। গতকাল কয়েকটি ব্যাংকের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বিক্রি ছাড়িয়েছে চার বিলিয়ন ডলার। প্রচুর ডলার বিক্রির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমে এখন ৩৬ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত বুধবার পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩৯৫ কোটি ডলার। গতকাল ১৩ কোটি ডলার বিক্রির পর তা ৪০৮ কোটি ডলার হয়েছে। এর বিপরীতে বাজার থেকে উঠে এসেছে ৩৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছর বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ৭৬২ কোটি ১৭ লাখ ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ঢোকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিক্রি করা ডলারের জন্য পরিশোধ এবং একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যাংকে টাকারও সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে যথাসময়ে এলসির দেনা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কোনো কোনো ব্যাংক ডলার না পেয়ে পরিশোধের সময় বাড়িয়ে নিচ্ছে। এ পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করলে দেশের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হবে। তখন আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো এলসির চার্জ আরও বাড়িয়ে দেবে। যে কারণে সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি এখন বেসরকারি ব্যাংকের কাছেও ডলার বিক্রি করা হচ্ছে।
সংশ্নিষ্টরা জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কাটাতে এবং রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আমদানিতে তদারকি জোরদার, শতভাগ পর্যন্ত এলসি মার্জিন নির্ধারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও জুলাই-আগস্ট সময়ে প্রায় ১৭ শতাংশ আমদানি বেড়ে এক হাজার ২৬৯ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। গত অর্থবছর আমদানিতে প্রায় ৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর নানা উদ্যোগের মধ্যেও এভাবে আমদানি বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ১০ দশমিক ৮৪ এবং রপ্তানি ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে।

প্রচুর ডলার বিক্রির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। গতকাল দিনের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। এক সপ্তাহ আগে যা ৩৬ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। গত বছরের এ সময়ে রিজার্ভ ছিল ৪৬ বিলিয়নের ওপরে। ইডিএফসহ বিভিন্ন তহবিলে জোগান দেওয়া অর্থ, শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ঋণের অর্থ বাদ দিয়ে হিসাব করলে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে; যা দিয়ে সাড়ে চার মাসের আমদানি মেটানো সম্ভব।

ডলারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ব্যাংকগুলো রপ্তানি বিল নগদায়ন ও সরাসরি প্রবাসীদের থেকে ডলার কেনায় ৯৯ টাকা দর বেঁধে দিয়েছে। বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে কিনছে সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা ৫০ পয়সায়। আর ডলার কেনার গড় দরের সঙ্গে এক টাকা যোগ করে আমদানি দায় নিষ্পত্তি ও আন্তঃব্যাংকে ডলার বেচাকেনা হচ্ছে। আমদানিতে এখনও অনেক ব্যাংক ১০৬ টাকার ওপরে দর নিচ্ছে। গতকাল আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার সর্বনিম্ন ১০৪ টাকা ৭৬ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১০৫ টাকা ৬৬ পয়সায় বিক্রি হয়।

খোলা বাজারে ১১২ টাকা :খোলা বাজারে গতকাল ডলারের দর ছিল ১১২ টাকা ৭০ পয়সা। আগের দিন যা ১১৩ টাকা ২০ পয়সা ছিল। সপ্তাহের শুরুতে ছিল ১১৫ টাকা। এর আগে গত আগস্টে খোলা বাজারে সর্বোচ্চ ১১৯ টাকায় ওঠে ডলার।

আরও পড়ুন

×