ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞরা

এলডিসি থেকে উত্তরণে নাগরিক সমাজের ভূমিকা বাড়াতে হবে

এলডিসি থেকে উত্তরণে নাগরিক সমাজের ভূমিকা বাড়াতে হবে

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২২ | ২২:১৮

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনের (সিএসও) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। উত্তরণ টেকসই এবং অন্যান্য উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে এসব সংগঠনের আরও ভূমিকা প্রয়োজন। তবে বিভিন্ন কারণে এসব সংগঠন যথেষ্ট আর্থিক সমর্থন পাচ্ছে না। অভ্যন্তরীণভাবে সরকারি পর্যায়েও সহায়তা কমেছে। এ বাস্তবতায় এলডিসি উত্তরণে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিশ্চিত করতে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলপত্র তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে।

গতকাল বুধবার 'বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা :সুযোগ ও চ্যালেঞ্জসমূহ' শীর্ষক এক নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞরা এমন মত দেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ সংলাপ আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, ইউএনডিপি ও ইউনাইটেড নেশনস পোভার্টি এনভায়রনমেন্ট অ্যাকশন। সিপিডি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ আরও কয়েকটি সংস্থা এ আয়োজনে সহায়তা দেয়।

সংলাপে একটি গবেষণা জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে অর্থ সরবরাহ কমে গেছে। অর্থ সংকটে ৪৭ শতাংশ সিএসওর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ৬৫ শতাংশ তাদের কাজ সীমিত করে এনেছে। ৪২ শতাংশ তাদের কর্মীদের বেতন কমিয়েছে। ৩১ শতাংশ তাদের কাজের এলাকা কমিয়ে এনেছে। সিপিডির কর্মীরা এ জরিপ পরিচালনা করেন। এতে ১০৯টি সংস্থার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

সংলাপ সঞ্চালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। প্রধান অতিথি ছিলেন অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ।

আব্দুস শহীদ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে সরকারের মধ্যে আলোচনা আছে। আগামীতে কী হবে- এ নিয়ে ভাবনা আছে। তবে এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। হাতে যে রিজার্ভ আছে তা দিয়ে পাঁচ থেকে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। পৃথিবীর অনেক দেশই এ মুহূর্তে বাংলাদেশের মতো সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমালোচনা হচ্ছে, হবে। এটাই গণতন্ত্র। সমালোচনা মেনে নেওয়াই শেখ হাসিনা সরকারের বৈশিষ্ট্য।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে এখন অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। তবে উন্নতি হচ্ছে না। মানুষের জীবনমানের অবনতি হয়েছে। গণতন্ত্রের ঘাটতি, দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের অভাব রয়েছে। আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব আছে। সরকারে দুর্নীতি ও অক্ষমতা আছে। জনগণের উন্নয়ন ঘটাতে হলে সুশীল সমাজ ও এনজিওগুলোর ভূমিকা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। তারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারকে ক্ষমতায়িত করে। তবে সরকার এ ক্ষমতার অপব্যবহার করে। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশলপত্র তৈরির আহ্বান জানান, যাতে নাগরিক ও এনজিওগুলো এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সিএসওর ভূমিকা খুব বেশি বলা হয় না। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, লিঙ্গসমতাসহ সব উন্নয়নে তাদের অবদান আছে।

'নিজেরা করি'র সমন্বয়ক খুশী কবীর বলেন, সরকার এনজিওকে প্রতিপক্ষ মনে করে। এরা আসলে প্রতিপক্ষ নয়। এ দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকের ভূমিকা আছে, যার স্বীকৃতি দিতে হবে। ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক দেশ মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এ বাস্তবতা এড়াতে চাইলে সিএসও এবং এনজিওগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে উন্নয়ন কৌশল নিতে হবে। একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি কমেছে। ক্ষুদ্র ঋণ নেই- এমন এনজিও অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করছে এখন। এতে জাতীয় উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ইআরডির বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ নেসার আহমেদ বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ নিয়ে সরকারের কার্যক্রমে বেসরকারি খাত এবং এনজিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যদিও এনজিওগুলো নিজেরাই এখন সমস্যার মধ্যে আছে। তাদের সহায়তা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×