ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

আমদানি কমানোর উদ্যোগ থাকলেও বাণিজ্য ঘাটতি আগের চেয়ে বেশি

বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি আরও বেড়েছে

বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি আরও বেড়েছে

প্রতীকী ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ২১:৩৯ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ২১:৩৯

বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি দায় নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে বেশিরভাগ ব্যাংক। সংকট উত্তরণে আমদানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। তবে রপ্তানির গতি কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৭৫৫ কোটি ডলারে ঠেকেছে। বাণিজ্য এবং অন্যান্য ঘাটতির কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের চলতি হিসাব ও বৈদেশিক লেনদেনের সামগ্রিক ভারসাম্যেও ঋণাত্বক পরিস্থিতির মাত্রা বেড়েছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বেশিরভাগ পণ্য আমদানিতে খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে গত এক বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের দর ২৫ শতাংশের মতো বেড়েছে। সব মিলিয়ে টান পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত বুধবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক কমে ৩৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। গত বছরের এ সময়ে যা ৪৬ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। আর গত বছরের আগস্টে সর্বোচ্চ রিজার্ভ উঠেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। রিজার্ভ ধরে রাখতে আমদানি কমাতে পণ্য ধরে ধরে তদারকি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনেক ধরনের পণ্যে ৭৫ শতাংশ থেকে শতভাগ এলসি মার্জিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে প্রথম তিন মাসে নতুন এলসি খোলা সাড়ে ৮ শতাংশের মতো কমলেও আগের দায় নিষ্পত্তির কারণে এ সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। যে কারণে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো ধরনা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। তবে সরকারি এলসির বাইরে সব ব্যাংককে ডলার সহায়তা দিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পরও চলতি অর্থবছরের এ কয়েক দিনেই ডলার বিক্রি ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

এদিকে অক্টোবর মাসের আমদানির তথ্য এখনও পাওয়া না গেলেও রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের তথ্য পাওয়া গেছে। উভয় ক্ষেত্রে আয় আরও পতন হয়েছে। অক্টোবরে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স কমেছে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এর ফলে অক্টোবর শেষের হিসাবে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি আরও বাড়তে পারে অনুমান করা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নানা উদ্যোগের পরও চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে প্রথম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৩৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। আর রপ্তানি ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৮০ কোটি ডলার হয়েছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৭৫৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যা ৬৭৭ কোটি ডলার ছিল। প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স মাত্র ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে ৫৬৭ কোটি ডলার হয়েছে। ফলে চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে ৩৬১ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ২৫৫ কোটি ডলার ছিল। বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় ২৮ শতাংশ বাড়লেও মেয়াদি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। ফলে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি অনেক বেড়ে ৩৪৫ কোটি ডলারে ঠেকেছে। আগের বছরের একই সময়ে যা মাত্র ৮১ কোটি ডলার ছিল।

বৈদেশিক লেনদেনে বড় চাপের মধ্যে থেকে গত অর্থবছর শেষ হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে চলতি হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার এবং সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ঘাটতি ছিল। আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি কমবে বলে আশা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষের ৩৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ ৪ দশমিক ৪ মাসের আমদানি দায় মেটানোর সমান। আর শুধু পণ্য আমদানি করলে ৪ দশমিক ৮ মাসের দায় পরিশোধ করা যাবে। এরই মধ্যে রিজার্ভ আরও কমেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) দেনা পরিশোধ করলে রিজার্ভ আরও কমবে। এ ছাড়া আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে রিজার্ভের হিসাব করলে এখান থেকে প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার বাদ যাবে।

আরও পড়ুন

×