ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

সিপিডির আলোচনায় বক্তারা

স্বল্পোন্নত দেশের উত্তরণে বহুপক্ষীয় অর্থায়ন বাড়ানো দরকার

স্বল্পোন্নত দেশের উত্তরণে বহুপক্ষীয় অর্থায়ন বাড়ানো দরকার

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০:৩৫ | আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২২ | ১০:৪০

বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তারা। রপ্তানিতে এখনকার শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে না। স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া যাবে না। এসব দেশের জন্য বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন বাড়াতে হবে। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তাদের আরও বেশি সহযোগিতা দরকার।

শুক্রবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত 'বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অর্থায়ন: দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পুনরুদ্ধারে সহায়তা' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অর্গানাইজেশন অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) 'বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিবেদন ২০২২' প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

ওইসিডির প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংস্থাটির পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি ইউনিটের প্রধান অলিভিয়ের ক্যাটেনিও বলেন, বৈদেশিক সহায়তা এবং সংকট মোকাবিলার বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়নের গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বিশ্বে বিদেশি সহায়তার ৫৯ শতাংশেরও বেশি আসে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে। ২০১৯ এর তুলনায় ২০২০ সালে তাদের অর্থায়ন ৩১ শতাংশ বেড়েছে।

এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবদ্ধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বহুপক্ষীয় অর্থ সহায়তা ব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট রয়েছে। অর্থের পরিমাণও সীমিত। এর নানা ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন। ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থায় দক্ষতার অভাব রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও কম হচ্ছে। স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, কভিডের কারণে দুই বছর অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব এখনও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জগুলো আরও ব্যাপকতর হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সারাবিশ্বে সার্বিকভাবে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার পরিমাণ বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে দ্বিপক্ষীয় তহবিলের বহুপক্ষীয়করণ। কিন্তু মৌলিক অনেক জায়গায় অর্থায়ন আসলে বাড়ছে না।

বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এখনকার মতো রপ্তানিতে শুল্কসুবিধা এবং স্বল্প সুদে বৈদেশিক ঋণ আগামীতে আর পাওয়া যাবে না। তাই এলডিসি উত্তরণের পর্যায়ে থাকা দেশের জন্য বহুপক্ষীয় অর্থ সহায়তা বাড়ানো দরকার।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বহুপক্ষীয় উন্নয়ন অর্থায়ন বাড়লেও মানবিক সাহায্যের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে চলতি বছর যতটুকু অর্থ প্রয়োজন, পাওয়া গেছে তার চেয়ে ৬৩ শতাংশ কম। মানুষের ওপর করোনা ও যুদ্ধের যে অভিঘাত এসেছে, তা মোকাবিলায় এ সহায়তা বাড়ানো দরকার। নমনীয় শর্তের ঋণের তুলনায় অনমনীয় শর্তের ঋণ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তানের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট পলিসি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আবিদ কাউয়ুম সুলেরি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে কয়েকটি দেশ। এসব বিবেচনায় বিভিন্ন খাতে এ অঞ্চলের জন্য বাড়তি অর্থায়ন প্রয়োজন।

শ্রীলঙ্কার ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. নিশা অরুণাতিলকে বলেন, অর্থনৈতিক সংকটে থাকা তাঁর দেশ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি তহবিল খুঁজছে। বহুজাতিক সংস্থাগুলো বিভিন্ন খাতে অর্থায়ন করে থাকে। কিন্তু তারা এই অর্থায়নটি করে থাকে মূলত সরকারের উন্নয়ন নীতি ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা দুর্বল বা খারাপ এবং বাস্তবায়ন ঠিকভাবে না হলে অর্থায়ন করেও লাভ হয় না। তাই ভালো উন্নয়ন পরিকল্পনা জরুরি।

আরও পড়ুন

×