নৌ ট্রানজিট উদ্বোধন আজ

আশুগঞ্জ বন্দর কতটা প্রস্তুত

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০১৬      

আবু কাওসার ও আনোয়ার হোসেন, আশুগঞ্জ থেকে

ট্রানজিটের উদ্দেশ্যে আশুগঞ্জে নোঙর করেছে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ সমকাল

কলকাতা বন্দর থেকে নৌপথে ট্রানজিটের প্রথম চালান নিয়ে একটি জাহাজ বাংলাদেশের আশুগঞ্জ বন্দরে এসে ভিড়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ট্রান্সশিপমেন্ট পয়েন্ট (পণ্য খালাসের স্থান) আশুগঞ্জ বন্দরে নোঙর করে জাহাজটি। যেদিন জাহাজটি এসেছে, সেদিন আশুগঞ্জের মূল জেটি থেকে কিছু দূরে নোঙর করে রাখা হয়। কিছু আনুষঙ্গিক কাজ শেষে পরের দিন অর্থাৎ গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় মূল জেটিতে ভেড়ানো হয়। আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌপথে ট্রানজিট আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবসহ ভিআইপিরা থাকবেন। তাই জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রানজিট চালুর উদ্দেশ্যে ছয় বছর আগে আশুগঞ্জ বন্দরকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ট্রানজিট কার্যকর করা হলেও এ বন্দরের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে তেমন কোনো কাজই হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা কাটেনি। বন্দর আধুনিকায়নে নিশ্চিত হয়নি অর্থায়নও। এ অবস্থার মধ্য দিয়েই নিয়মিত ট্রানজিট চালু হলো।

গতকাল ঢাকা থেকে একদল সাংবাদিক আশুগঞ্জ বন্দরে গিয়ে দেখতে পান, এই বন্দরে একটি মাত্র আরসিসি জেটি ও ওয়্যারহাউস ছাড়া অন্য কোনো অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত (যেমন বন্দরের বিভিন্ন পণ্য ওজন পরিমাপক যন্ত্র, স্ক্যানিং মেশিন ইত্যাদি) সুবিধা

নেই। তাছাড়া বন্দরের লোডিং-আনলোডিং পণ্যের জন্য মাশুল আদায়ে নেই কোনো অফিস ও জনবল। বন্দর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত ৫শ' মিটার রাস্তাটি নতুন করে নির্মাণ করা হলেও তা যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। ফলে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে সমস্যা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ বন্দরের জন্য প্রায় ২৭ একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব করে বিআইডবি্লউটিএ কর্তৃপক্ষ। এসব জমির বেশির ভাগ রেলওয়ে, খাদ্য বিভাগ ও আশুগঞ্জ সার কারখানা কর্তৃপক্ষের। খাদ্য মন্ত্রণালয় তাদের জমি দিতে আপত্তি করে। ফলে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। এ জটিলতা নিরসনে নৌ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সম্প্রতি সরেজমিনে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এ বিষয়ে সরকারকে একটি প্রতিবেদন দেয়। জানা গেছে. প্রতিবেদনে খাদ্য বিভাগের বিতর্কিত জমি বাতিল করে নতুন করে বেসরকারি পর্যায়ে আরও কিছু জায়গা অধিগ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে । নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, শিগগিরই জমি জটিলতা নিরসনে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করা হবে। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ নৌ বন্দরের নৌযান পরিদর্শক মো. শাহ আলম গতকাল সমকালকে জানান, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে এবং সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে যে জটিলতা ছিল, শিগগিরই তার অবসান হবে।

জানা গেছে, বর্তমান সরকার প্রথম মেয়াদে ২০০৯ সালে আশুগঞ্জ বন্দরকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ বন্দরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। একে আন্তর্জাতিক মানের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে ২০১০-এর জানুয়ারি মাসে একনেকের বৈঠকে আশুগঞ্জ বন্দর উন্নয়নে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ভারতীয় ঋণের টাকায় (এলওসি) এ বন্দর আধুনিকায়নের কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ঋণ সহায়তা পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, শুরুর দিকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তা এখন বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বাড়তি অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয় এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলেনি।

এমভি নিউটেক-৬ নামে বাংলাদেশি জাহাজটি কলকাতা বন্দর থেকে এক হাজার টন রডের স্টিলশিট নিয়ে গত ৩ জুন বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়। দু'দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নৌ প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী মাশুল বা ফি আরোপের পর এটিই আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিটের প্রথম চালান। এর আগে একই রুটে দু'দফা ট্রানজিটের চালান এলেও সেটি ছিল অনানুষ্ঠানিক। আশুগঞ্জ বন্দরে খালাসের পর এক হাজার টন স্টিলশিট যাবে ভারতের ত্রিপুরায়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৫১ কিলোমিটার সড়ক ব্যবহার করে ওইসব পণ্য যাবে ত্রিপুরার আগরতলা সীমান্তে।

এর আগেও আশুগঞ্জ বন্দরে ট্রানজিটের চালান নিয়ে জাহাজ এসেছে। কিন্তু তখন সাধারণ জনগণের মধ্যে এটা নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না। এবারের জাহাজটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। কারণ ট্রানজিট স্থায়ীভাবে চালু হওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাণচাঞ্চল্য আসবে, তৈরি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।

উদ্বোধন উপলক্ষে জাহাজটিকে রঙিন কাগজে দু'দেশের পতাকা লাগিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। বন্দর সংলগ্ন জেটিতে বিশাল প্যান্ডেল টানিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নতুন রূপে সেজেছে আশুগঞ্জ বন্দর। মূল জেটি থেকে দূরে নদীর মাঝখানে জাহাজ নোঙর করায় অনেকেই নৌকা ভাড়া করে জাহাজ দেখতে যান।

জাহাজটি পরিদর্শনে গতকাল দুপুরে ঢাকা থেকে আসা এক দল সাংবাদিকও আশুগঞ্জ বন্দরে যান। সেখানে কথা হয় এমভি নিউটেক-৬-এর মাস্টার মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এ রুটে চলাচল করা বেশিরভাগ জাহাজের মালিক বাংলাদেশি। যত বেশি পণ্য আনা-নেওয়া হবে, তত বেশি আয় বাড়বে জাহাজ মালিকদের। নৌপথে চাঁদাবাজিসহ কিছু সমস্যার কথাও জানান তিনি।

কলকাতা বন্দর থেকে নির্ধারিত রুটে বাংলাদেশের আশুগঞ্জ আসতে স্বাভাবিক নিয়মে সময় লাগে ১০ দিন। কিন্তু এমভি নিউটেকের লেগেছে ১৪ দিন। সময় বেশি লাগার কারণ সম্পর্কে মিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশের সময় খুলনার আংটিহারা শুল্ক অফিসে ট্রানজিটের জন্য নির্ধারিত মাশুল আদায় নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সেখানে চার দিন বিলম্ব হয়েছে।

বিআইডবি্লউটিএর অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রানজিট চালু হলে উভয় দেশই উপকৃত হবে। তার মতে, এ ব্যবস্থায় ভারতের বাণিজ্য বাড়লেও বাংলাদেশ সরকারও লাভবান হবে। কারণ, ট্রানজিটের বিনিময়ে যে সেবা দেওয়া হবে, তার জন্য ভারত বাংলাদেশকে মাশুল দেবে।

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
তারিখ সেহরি ইফতার
২৭ মে '১৯ ৩:৪১ ৬:৪৩
২৮ মে '১৯ ৩:৪০ ৬:৪৪
*ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ