৪৭ বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬ গুণ

অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

স্বাধীনতার ৪৭ বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় অন্তত ১৬ গুণ বেড়েছে। ১৯৭১ সালের পর এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলারের কাছাকাছি। এখন তা ১৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। শুধু মাথাপিছু আয় নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। 


আজ ২৬ মার্চ। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে পুরো দেশ পাকিস্তানি শাসক ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেদিনের সংগ্রাম শুধু পরাধীনতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ছিল না, ছিল অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামও। তখন এ দেশের অনেক মানুষের অবস্থাই ছিল নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। ক্ষুধা, অপুষ্টি, স্বাস্থ্যহীনতাসহ বিভিন্ন কারণে আয়ুস্কালও ছিল অনেক কম। শিক্ষার হার ছিল নিম্ন পর্যায়ে। ছিল না কর্মসংস্থান। এমন ভগ্নদশা  দেখে মুক্তিযুদ্ধের পর অনেকেই ভাবতে পারেননি, বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াবে, ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু অদম্য বাঙালি সব নেতিবাচক ভাবনার মুখে চুনকালি দিয়ে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে।


সম্প্রতি বাংলাদেশের মুকুটে যোগ হয়েছে নতুন আরও একটি পালক। আর্থ-সামাজিক সূচকে জাতিসংঘের নির্ধারিত মান অর্জন করায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের এ স্বীকৃতির ঘোষণা এসেছে স্বাধীনতা দিবসের ১০ দিন আগে গত ১৬ মার্চ। 


১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় কত ছিল তার স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। যুদ্ধকালীন সময়ে এ ধরনের পরিসংখ্যান তৈরির কাজও হয়নি। বিভিন্ন প্রকাশনায় ১৯৭২ সালে এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১০০ ডলারের নিচে বলে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭৩ সালে বিশ্বব্যাংকের উপস্থাপিত একটি হিসাবে দেখা যায়, তখন মাথাপিছু আয় ছিল ১২০ ডলার। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০১৭ সাল শেষে এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৯৬ ডলারে। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে তা আরও বেশি। বিবিএসের সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালের খানা আয়-ব্যয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১৬১০ ডলারে। বিবিএস ও বিশ্বব্যাংকের হিসাবের পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এই পার্থক্য। বিশ্বব্যাংক সব দেশের জন্যই নির্দিষ্ট 'অ্যাটলাস' পদ্ধতিতে হিসাব করে থাকে। 


বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল ৮ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। স্বাধীনতার বছর দেশের ৮০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। সর্বশেষ হিসাবে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। ১৯৭১ সালে গড় আয়ু ছিল ৪৭ বছরের একটু বেশি। বিবিএসের সর্বশেষ হিসাবে তা ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে।


বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে। একসময় খাদ্য আমদানি করতে হতো। এখন জনসংখ্যা বাড়লেও এবং চাষযোগ্য জমি কমলেও খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। অর্থনীতিতে কৃষির চেয়ে শিল্পের অবদান বাড়ছে। বাড়ছে সেবা খাতের কার্যক্রম। তিনি বলেন, সামাজিক অনেক সূচকেও বাংলাদেশ ভালো করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের চেয়েও ভালো করেছে। যে কারণে বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ছয় শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও আরও ভালো করতে হবে। সেজন্য শ্রমের দক্ষতা ও সরকারি বিনিয়োগের গুণগত মান বাড়াতে হবে। অবকাঠামোতে আরও উন্নয়ন দরকার। জ্বালানি খাতে উন্নতি হলেও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। 


মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ তিনটি সূচকের দুটিতে উত্তীর্ণ হলে কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই যোগ্য বিবেচিত হয়েছে। আগামী ছয় বছর এর যে কোনো দুটি সূচকে জাতিসংঘের মানদণ্ড ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবে। মানবসম্পদ সূচকে পাঁচটি বিষয়ের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নেয় জাতিসংঘ। 


সামাজিক সূচক : পার্শ্ববর্তী ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় সামাজিক বেশ কিছূ সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রাপ্তির হিসাবে বাংলাদেশ বেশি এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রতি হাজারে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। ভারতে এই হার ৪৩ ও পাকিস্তানে ৭৯ জন। একইভাবে বাংলাদেশে ৯৮ ভাগ শিশু প্রাথমিক শিক্ষাপর্ব শেষ করছে। ভারতে তা সমান হলেও পাকিস্তানে ৭২ ভাগ শিশু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করছে। আয়ুস্কালের দিক থেকেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। ভারতে তা ৬৮ বছর আর পাকিস্তানে ৬৬ বছর। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের জনসংখ্যার প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ। পাকিস্তানের তা ২ শতাংশ। বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিষয় : মাথাপিছু আয় সূচক

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
তারিখ সেহরি ইফতার
২০ মে '১৯ ৩:৪৪ ৬:৪০
২১ মে '১৯ ৩:৪৪ ৬:৪০
*ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য
সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ