ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

বাজেটে থোক বরাদ্দের টাকা খরচ হবে করোনা রোধে

বাজেটে থোক বরাদ্দের টাকা খরচ হবে করোনা রোধে

আবু কাওসার

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৪২ | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৫:০৬

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বাজেটে গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণসহ অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো হচ্ছে। কোন কোন খাতে আরও ব্যয় কমানো যেতে পারে, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, থোক বরাদ্দের টাকা অন্য খাতে ব্যয় না করে সেই অর্থ করোনা প্রতিরোধে ব্যয় করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটে থোক বরাদ্দের অর্থ খরচ করার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ ব্যয় না হলে ওই টাকা করোনা প্রতিরোধে খরচ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই টাকা মূল বাজেটে দেওয়া বরাদ্দের বাইরে। করোনার থাবা যেভাবে প্রসারিত হচ্ছে, তাতে এ খাতে আরও অর্থ লাগবে। সে জন্য বাজেটে বিভিন্ন খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এতে করে যে পরিমাণ অর্থ বাঁচবে তা করোনা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে খরচ করা যাবে।

করোনা-পরবর্তী সময়ে গরিব মানুষের খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করার আশঙ্কা প্রকাশ করে শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মানুষের আয়-রোজগার নেই। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ না থাকায় এদের হাতে নগদ টাকা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যের অভাব দূর করাই হচ্ছে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই সংকট মোকাবিলা করতে চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি আবার সংশোধন করার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, করোনার কারণে এবার ৬০ শতাংশের বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করতে পারবে না সরকার। ফলে এডিপি পুনরায় সংশোধন করে অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করার সুযোগ আছে। ওই টাকা দিয়ে করোনা-পরবর্তী নিম্ন আয়ের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া যাবে বলে মনে করেন তারা। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নুরুল আমিন সমকালকে বলেন, করোনা কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হয় তা বলা কঠিন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের অর্থ সব ব্যয় হবে না। সরকার যদি মনে করে ওই টাকা করোনা প্রতিরোধে ব্যয় করা হবে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। উল্লেখ্য, এর মধ্যে মূল এডিপি সংশোধন করে এক লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এটা আবারও সংশোধন করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না বলেই অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

সূত্র জানায়,সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, এডিপিতে যে থোক বরাদ্দ রয়েছে তা যেন খরচ না করা হয়। কোনো মন্ত্রণালয় করতে চাইলে অবশ্যই অনুমোদন নিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। জানা যায়, চলতি অর্থবছরের অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেটে মোট দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি থোক বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে উন্নয়ন বাজেটে ৮৩১ কোটি টাকা।

সাধারণত আপৎকালীন বা জরুরি চাহিদা পূরণে বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা হয়।

সূত্র জানায়, অনুন্নয়ন বাজেটে ব্যয় সংকোচনের সুযোগ কম। এডিপিতে অনেক প্রকল্প আছে, যেগুলো প্রাধিকার ভিত্তিতে নেওয়া হয় না। আবার যে বরাদ্দ দেওয়া হয় মন্ত্রণালয়গুলো তা খরচ করতে পারে না। ফলে এখানে ব্যয় কমানোর যথেষ্ট সুযোগ আছে। যোগাযোগ করা হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন- স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় কমানোর সুযোগ নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় গাড়ি কেনা হয়। এটা বন্ধ করতে হবে। বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করাসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধ করতে হবে। তিনি মনে করেন, বাজেট ঘাটতি বাড়লে এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ, আমাদের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত সহনশীল আছে। ফলে ঋণ বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো সমস্যা হবে না।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ডক্টর আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনার কারণে বাইরের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ধাক্কাই বড়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গরিব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এর পেছনে সরকারকে বড় অঙ্কের অর্থ জোগান দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এবার রাজস্ব আহরণে বড় ধস নামবে। ফলে সরকারকে টাকা ছাপতে হবে। পাশাপশি এডিপি ফের সংশোধন করে তা থেকে অর্থ সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে করোনা পরবর্তী খাদ্য সংকট মোকাবিলা করা সরকারের জন্য কঠিন হবে।

আরও পড়ুন

×