দায়িত্ব নিল নতুন কমিটি

খামখেয়ালি করে বিজিএমইএ চলতে পারে না: রুবানা হক

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রুবানা হক -ফাইল ছবি

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক। দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানেই তিনি বলেছেন, বিজিএমইএ একটি প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বিভাজন কাম্য নয়। খামখেয়ালি করে সংগঠন চলতে পারে না; অতীতেও চলেনি। সংগঠনের প্রধান কাজ সদস্যদের সেবা দেওয়া। সেটা ঠিকমতো দিতে না পারলে ব্যর্থতার দায়ভারও নিতে হবে।

তিনি জানান, বিজিএমইএর নতুন ভবনের কাজ যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করা হবে, যাতে পরবর্তী কমিটি এই ভবনে ভালোভাবে কাজ করতে পারে।

নির্মাণাধীন উত্তরায় বিজিএমইএর নতুন ভবনটি এখনও ব্যবহারোপযোগী না হওয়ায় কারওয়ান বাজারের ভবনে আরও এক বছর থাকার অনুমতি চেয়ে আদালত এবং সরকারের কাছে আবেদন করতে বিদায়ী কমিটিকে অনুরোধ করেছিল নতুন কমিটি। কিন্তু তারা এতে রাজি হননি। মূল শহরে ভাড়া ভবনেরও ব্যবস্থার অনুরোধ রক্ষা করা হয়নি। এ নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে মূল বিরোধ তৈরি হয় সংগঠনের আগের কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বারবার নির্বাচন পেছানোকে কেন্দ্র করে। আগের সমঝোতা অনুযায়ী একক প্যানেলে নির্বাচন করলেও ফোরাম এবং সম্মিলিত পরিষদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নির্বাচনের পর এ বিষয়ে রীতিমতো ঠাণ্ডা লড়াই হয়। সর্বশেষ গত ১০ এপ্রিল কারওয়ান বাজারের ভবনটি ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে নতুন কমিটির পক্ষে আদালতে বিজিএমইএর আইনজীবীর আবেদনকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের আরও অবনতি হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে এই আবেদন যারা করেছেন, তাদের বিচার দাবি করেন সিদ্দিকুর রহমান।

সংগঠনের ৩৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শেষে শনিবার বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন রুবানা হক। সভাপতি ছাড়াও নতুন কমিটির সাতজন সহসভাপতিও দায়িত্ব নিয়েছেন। শনিবার বিকেলে উত্তরায় বিজিএমইএর নতুন ভবনে এজিএম শুরু হয়। এজিএমের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও শেষ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন রুবানা হক। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সভায় ২০১৭-১৮ সালের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণী পাস এবং ২০১৮-১৯ সালের বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন, সেই চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে পোশাক খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রুবানা হক। গত সাড়ে তিন বছর বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে বিজিএমইএর কার্যক্রম পরিচালনায় বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের প্রশংসা করেন রুবানা হক। আগামী দুই বছরে পোশাক খাতের স্বার্থে বিজিএমইএ পরিচালনায় সিদ্দিকুর রহমানসহ সাবেক সব নেতার সহযোগিতা চান তিনি। তুলনামূলক নবীনদের নিয়ে গড়া তার কমিটি সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের আস্থার প্রতি সুবিচার করবে বলে জানান তিনি।

বিজিএমইএ পরিচালনায় তার পরিকল্পনা এবং অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে রুবানা হক বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের কারখানাগুলোকে রক্ষা করতে হবে। প্রতিদিনই এ ধরনের কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে। রোববারও দুটি কারখানা বন্ধ হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় মজুরি বৃদ্ধির কারণে অনেক কারখানা মালিক মজুরি পরিশোধ করতে পারছেন না। লজ্জায় কাউকে বলতেও পারেন না। এদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

দুই ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স প্রসঙ্গে রুবানা হক বলেন, রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পার হয়েছে। এতদিনে নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজন ছিল। সেই চেষ্টা করবেন তিনি। কারণ, কারও বাতলে দেওয়া তরিকা তিনি নেবেন না। কারখানার নিরাপত্তা উন্নয়নের পাশাপাশি শ্রমিকের কল্যাণ করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

গত ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ভোটে বিজিএমইএর ঢাকা অঞ্চলের ২৬ পরিচালক নির্বাচনে রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন জোট সম্মিলিত-ফোরাম পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়।

বিষয় : রুবানা হক বিজিএমইএ