কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অসাংবিধানিক: টিআইবি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে 'বৈষম্যমূলক' ও 'দুর্নীতিবান্ধব' বলে আখ্যায়িত করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, এ প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতারও পরিপন্থি। তবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগের প্রশংসা করেছে টিআইবি।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ প্রতিক্রিয়া জানায়।

টিআইবি বলেছে, যেসব খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। সৎপথে এসব খাতে আয় ও সম্পদ আহরণের সুযোগ ধূলিসাৎ হবে। এতে দুর্নীতির বিস্তৃতি ও গভীরতা বাড়বে। সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয়বৈষম্য নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না রেখে বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করায় সম্পদ ও আয়বৈষম্য আরও বাড়বে বলে মন্তব্য সংস্থাটির।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থি হলেও দফায় দফায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে এসেছে সব সরকার। এটা সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন। এবারের বাজেটে এই অনিয়মকে আরও বাড়ানো হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনাকেও যোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করা যাবে। এবারই প্রথমবারের মতো অবৈধ টাকাকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ দুর্নীতির মহোৎসব ও বিচারহীনতাকে পাঁচ বছর মেয়াদি লাইসেন্স দেওয়া হলো।

টিআইবি বলেছে, ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অবৈধ টাকাকে বৈধতা দেওয়ার অর্থ সমাজে বৈধভাবে উপার্জন করাকে নিরুৎসাহিত করা। এটা চরম বৈষম্যমূলক, কারণ সৎপথে উপার্জনকারীকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি মনে করে, রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের অপসংস্কৃতিতে ধুঁকতে থাকা সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ না থাকায় তা এ খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পে বাড়তি প্রণোদনার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কী ভূমিকা রাখবে এবং তা কীভাবে– এ ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত নেই। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে অর্থ ব্যয়ের খাতওয়ারি কোনো তথ্য বা বিশ্লেষণের সুযোগ প্রতিবারের মতো এবারও জনগণকে দেওয়া হয়নি। এটা থাকা এ বিষয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) জন্য কোনো বরাদ্দ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটে কোনো বরাদ্দ না রাখাটা একবারেই অযৌক্তিক এবং উল্টো পথে হাঁটার শামিল।

বিষয় : বাজেট ২০১৯-২০ টিআইবি কালো টাকা