এনসিসি ব্যাংক এমডির ৮ কোটি টাকা জব্দ

দুদকের অনুসন্ধান চলছে

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

হকিকত জাহান হকি

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের ব্যাংকে রাখা আট কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জব্দের আদেশ দেন। টাকা উত্তোলন, স্থানান্তর বন্ধে ওই দিনই সংশ্নিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আদেশের খবর জানিয়ে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ রোববার সংশ্নিষ্ট ব্যাংকগুলোতে আদালতের আদেশের কপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, মোসলেহ উদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যাংকের একাধিক হিসাবে অস্বাভাবিক অর্থ জমা, লেনদেনের অনুসন্ধানের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে-বেনাম স্থাবর-অস্থাবর বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সমকালকে  বলেন, একাধিক ব্যাংকে শীর্ষ পদে থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। ওই টাকার উৎস কী, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র জানায়, এনসিসিসহ পাঁচটি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোসলেহ উদ্দীন ও তার স্ত্রী লুনা শারমিনের নামে ১৩টি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে জমা রয়েছে মোট ৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩২৫ টাকা। মোসলেহ উদ্দীনের বিরুদ্ধে ওইসব হিসাবে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন, মানি লন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এই পর্যায়ে উত্তোলন, স্থানান্তর, হস্তান্তর করে ওই টাকা বেহাত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে তথ্য পেয়েছে দুদক।

ওই টাকা যাতে বেহাত না হয় তা নিশ্চিত করতে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ চৌধুরী ওই ১৩টি অ্যাকাউন্ট জব্দের আবেদন জানান ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে। বৃহস্পতিবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে পুরো টাকা জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

দুদক কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, মোসলেহ উদ্দীন এনসিসি ব্যাংকের আগে কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, কর ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। তার বিরুদ্ধে দুদক ও মানি লন্ডারিং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে মোসলেহ উদ্দীনের নামে ৩৫ কোটি টাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, যা অস্বাভাবিক। ওই ৩৫ কোটি টাকার হিসাব খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়ে বিএফআইইউ থেকে দুদকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছিল গত মে মাসে। পরে কমিশন তদন্ত প্রতিবেদনটি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।

দুদকের অনুসন্ধানে এই পর্যায়ে পাঁচ ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১৩টি হিসাবে নগদ জমা থাকা ৮ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩২৫ টাকার তথ্য পাওয়া যায়।

এর মধ্যে এনসিসি ব্যাংকের চারটি হিসাব যমুনা ব্যাংকের দুটি হিসাব, প্রাইম ব্যাংকের একটি হিসাব, সিটি ব্যাংকের তিনটি হিসাব, প্রিমিয়ার ব্যাংকের একটি হিসাব ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে রাখা হয়েছে ওই টাকা।

বিএফআইইউ থেকে দুদকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচটি ব্যাংক, দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত চারটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে ওই ৩৫ কোটি টাকার হিসাব মিলেছে। বলা হয়, ঢাকার মতিঝিলের এনসিসি ব্যাংক ভবন শাখায় এমডির হিসাবে প্রতি মাসে বেতন বাবদ জমা হয় ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪০ টাকা। একই শাখায় তার নামে আরেকটি হিসাব রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই হিসাবে পাঁচ হাজার ডলার জমা হয়। আট হাজার ডলার জমা হয় চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি।

মোসলেহ উদ্দীন ২০১৫ সাল পর্যন্ত যমুনা ব্যাংকে ডিএমডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি এনসিসি ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৭ সালের আগস্টে তাকে এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিষয় : এনসিসি ব্যাংক টাকা