গাড়ি আমদানিতে এমপিদের আগাম কর দিতে হবে না

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

আবু কাওসার

সংসদ সদস্যদের (এমপি) গাড়ি আমদানিতে 'আগাম কর' দিতে হবে না। এ কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাদের। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গতকাল এক আদেশ জারি করে তা কার্যকর করছে।

এর ফলে আগের মতোই সম্পূর্ণ 'শুল্ক্কমুক্ত'ভাবে গাড়ি আনার সুবিধা পাবেন এমপিরা। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আধাসরকারি পত্রে এমপিদের গাড়ি আনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আগাম কর আদায় না করার অনুরোধ করা হয় এনবিআরকে। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে আগাম কর তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনবিআর।

গত ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হয়। এ আইনে অত্যাবশকীয় পণ্য, শিল্পের মূলধনি কাঁচামাল, সামরিক সরঞ্জামসহ কিছু পণ্য বাদে অন্য পণ্য আমদানিতে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আগাম কর আরোপ করা হয়। আইনটি কার্যকরের ফলে এমপিদের গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রেও আগাম কর আরোপ হয়। এদিকে বেশ কয়েকজন সাংসদ শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার আওতায় গাড়ি আনার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এনবিআর থেকে তাদের আগাম করের বিষয়টি জানানো হয়। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জানান তারা।

সাংসদদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের নির্দেশে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান বিষয়টি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে পত্র লেখেন। এ আবেদন পরীক্ষা করে অর্থমন্ত্রীর সম্মতির জন্য এনবিআর থেকে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। গত সপ্তাহে বিষয়টিতে অর্থমন্ত্রী সম্মতি দেন। গতকাল আদেশ জারি করে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে এনবিআর।

১৯৮৮ সালে প্রথম সাংসদদের জন্য শুল্ক্কসহ যাবতীয় করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সরকারের শাসনামলেও এ সুবিধা বহাল থাকে। তবে বিভিন্ন অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়। সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী, একাধিকবার নির্বাচিত এমপিরা সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার আওতায় গাড়ি আনতে পারবেন। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সর্বনিম্ন ১৬৫০ সিসি এবং সর্বোচ্চ ৩০০০ সিসির কার, মাইক্রোবাস ও জিপ আনতে পারবেন। প্রথম গাড়ি কেনার পাঁচ বছর পেরোনোর পর সংসদ সদস্য থাকাকালে দ্বিতীয় গাড়ি আনা যাবে। তবে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার আওতায় লেক্সাস, মার্সিডিজ, হামার, পোরশে, রোলস রয়েস ও ভলভোর মতো বিলাসবহুল গাড়ি আনা যাবে না।

এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী, শুল্ক্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনার পর একজন এমপিকে কমপক্ষে তা পাঁচ বছর পর্যন্ত চালাতে হবে। এর মধ্যে হস্তান্তর করা যাবে না। হস্তান্তর কিংবা বিক্রি করতে হলে সরকারের প্রযোজ্য হারে শুল্ক্ককর পরিশোধ করতে হবে। গাড়িটি বিক্রি করতে গেলে স্পিকারের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে সংশ্নিষ্ট শুল্ক্ক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে। কোনো এমপি গাড়ি আমদানির তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে মারা গেলে তার উত্তরাধিকার গাড়িটি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে তিনি এটি বিক্রি করতে চাইলে নতুন করে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রযোজ্য হারে শুল্ক্ককর পরিশোধ করতে হবে।