দাম বাড়ল সয়াবিন তেলের

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়েছে দেশের ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো। এতে এখন থেকে ভোক্তাদের প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়তি দাম গুনতে হবে। বাংলাদেশ এডিবল, মেঘনা, টি কে, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি এই দর বাড়ানোর বিষয়ে পরিবেশকদের অবহিত করেছে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, এরই মধ্যে কিছু কোম্পানি বাড়তি দরে তেল বাজারে সরবরাহ করেছে।

এখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল খুচরায় ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৪৪০ থেকে ৪৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দর বৃদ্ধির ফলে প্রতি লিটার তেল ১০৫ থেকে ১১২ টাকায় বিক্রি হবে। পাঁচ লিটার বিক্রি হবে ৫০০ থেকে ৫৩০ টাকায়। এতে প্রতি পাঁচ লিটারের বোতলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি গুনতে হবে। এ ছাড়া পাম তেলের দাম পরিবর্তন হয়নি। প্রতি লিটার পাম তেল ৬১ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে বোতলের মোড়কে লেখা খুচরা মূল্য পরিবর্তন করে নতুন দর দেয়নি কোম্পানিগুলো। আগে বোতলের গায়ে খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রেখে শুধু ছাড় দিয়ে কম দামে বাজারে সরবরাহ করেছে। এখন ওই ছাড় তুলে নিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কাসেম জানান, সব কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ভুট্টু সমকালকে বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দর বৃদ্ধির আগেই খোলা তেলে বেড়েছে। পাইকারিতে এক সপ্তাহ ধরে খোলা তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এতে লিটারে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিত সাহা সমকালকে বলেন, সিটি গ্রুপ বোতলজাত ভোজ্যতেলের দর এখনও পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে সম্প্রতি ডলারের দর বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমদানি এই পণ্যে।

শুধু ভোজ্যতেল নয়, চিনির দামও বেড়েছে। পাইকারিতে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনিতে ১৫০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় প্রতি কেজিতে দুই টাকা বেড়ে পরিশোধিত চিনি ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুড়ের দামও কম নয়। এখন প্রতি কেজি আখের গুড় ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমার প্রভাব খুচরায় পড়েনি। পাইকারিতে গত চার দিনে কেজিতে ২০ টাকা দাম কমেছে। খুচরা বাজারে এখনও দেশি পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বেড়েছে আলুর দাম। প্রতি কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ২৩ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় মাছ ও সবজির দাম কিছুটা কমেছে। অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন হেরফের হয়নি।