ব্যবসায় বাধা অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর: এফবিসিসিআই সভাপতি

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম -ফাইল ছবি

‘উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। রপ্তানি কমে যাচ্ছে। ব্যাংকে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। ব্যবসায়ীরা সুদের হার নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। ব্যাংক খাত পুনর্গঠন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা দুঃখজনক। অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিশ্রুতি রয়েছে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা দেওয়ার। কিন্তু সিরামিকের মতো সম্ভাবনাময় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্কসহ অন্যান্য শুল্ক দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর এমন কিছু বাধার সৃষ্টি করছে।’ 

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সিরামিক পণ্যের প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনের এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ সিরামিক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি। 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও সুদের হার নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়। ঋণের সুদহার কমছে না। উল্টো খেলাপি ঋণ বাড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে এখন ঋণের সুদহার সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া আমানত ও ঋণের সুদহারের পার্থক্যও বাংলাদেশে বেশি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার মধ্য থেকেও উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে, যেখানে সহজ শর্তে সিঙ্গেল ডিজিট ঋণ পাওয়ার কথা। 

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার ১১ মাস পর নভেম্বরে এসে অর্থমন্ত্রী বলছেন, সুদহার এত বেশি যে বাংলাদেশে ব্যবসা করা কঠিন। এই ১১ মাস উনি (অর্থমন্ত্রী) শীতযাপনে ছিলেন? ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী কী করলেন? এগুলো দুঃখজনক।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশে গত ১০ বছরে সিরামিক খাতে আট হাজার ৬৬১ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০০ শতাংশ। তৈরি পোশাকের পর সম্ভাবনাময় খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সিরামিক। পোশাক খাত যেসব সুবিধা পায়, তা সিরামিক খাতে দেওয়া উচিত। তবে এ খাত সেই সুবিধা পাচ্ছে না।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, 'এই অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অসংখ্য দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এসেছেন এবং একাধিক দেশ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির নির্বাহীরা এসেছেন। সেখানে এনবিআর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত। অবশ্য তার অনুপস্থিত থাকার হয়তো যুক্তিসংগত কোনো কারণ আছে।'

তিনি বলেন, আমদানি করা সিরামিকের কাঁচামালের মধ্যে ৩০ শতাংশ আর্দ্রতা থাকে। সেই আর্দ্রতার ওপর কর দিতে হয়; সম্পূরক শুল্ক (এসডি) দিতে হয়। এসডি আরোপ করা হয় স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। অথচ সিরামিকের কাঁচামালে এসডি আরোপ করে সিরামিক শিল্পে বাধার সৃষ্টি করছে এনবিআর। এ জন্য হয়তো বা এনবিআর চেয়ারম্যান এখানে উপস্থিত হননি। দেশের প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সম্মান করেন, সহযোগিতা করেন; কিন্তু সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ব্যবসা করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এটি বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার শামিল। 

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন-২০২১ ও ২০৪১ আছে। গত ১০ বছরে ১৮৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৩৩০ ডলার থেকে এক হাজার ৯০৯ ডলার হয়েছে। সেখানে অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর কর্মকর্তাদের সহযোগিতার ঘাটতি ও পেশাগত অযোগ্যতা খুবই দৃশ্যমান।

শেখ ফজলে ফাহিম আরও বলেন, ভর্তুকি থাকলেও পাটশিল্প কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত দুই মাস পোশাক রপ্তানি নিম্নমুখী ধারায়। সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ আছে। অন্যান্য খাতের মধ্যে চামড়ায় সুবিধা দেওয়া হলেও নিতে পারছে না। চামড়াপণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা কমছে। সিনথেটিক পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। এ অবস্থায় সিরামিক খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।