কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে নতুন পেঁয়াজ, পুরোনোটা ২০

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

বাজারে সরবরাহ বাড়াতে আগাম পেঁয়াজ তুলছেন কৃষকরা। এই পেঁয়াজ এলেও বাজারে দাম কমাতে পারেনি। উল্টো নতুন এ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। দেশি পুরোনো পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরও ২০ টাকা বাড়ল। তবে আমদানি করা বড় আকারের পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধিতে ওই পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।

দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়ে আগের মতো ব্যবসায়ীদের একই যুক্তি। সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। তবে আমদানি করা বড় আকারের পেঁয়াজের চাহিদা কম। এ কারণে বিক্রি কম হওয়ায় দামও কমছে বলে জানান পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খুচরা বাজারে দেশি পুরোনো পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হয়। এ পেঁয়াজ আগের সপ্তাহে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা ছিল। দেশি মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ এতদিন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও গত দু'দিন ধরে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মিয়ানমারের পেঁয়াজও একই হারে বেড়ে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আমদানি করা চীন, মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ রাজধানীর বাজার ও অলিগলিতে ভ্যানে বিক্রি হতে দেখা গেছে। চীনা পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মিসরের পেঁয়াজ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়, যা এতদিন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ছিল।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিন সমকালকে বলেন, দেশি নতুন পেঁয়াজ শুরুতে ৫ থেকে ১০ বস্তা এলেও এখন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আসছে। গত বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ বস্তা এসেছে। এর পরেও দাম কিছুটা কম থাকায় কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। এ কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পুরোনো পেঁয়াজ ফুরিয়ে আসছে। এ কারণে বাজারে অল্প পরিমাণে থাকায় দাম বেড়ে গেছে।

এই বাজারের ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, এবার ফরিদপুর ও গোয়ালন্দ থেকে গাছসহ পেঁয়াজ বেশি এসেছে। এ কারণে ওই অঞ্চলের মুড়িকাটা পেঁয়াজ একসঙ্গে বাজারে সরবরাহ তেমন বাড়াতে পারেনি। এ কারণে দাম বেড়েছে। তবে এখন ঈশ্বরদী ও পাবনা থেকে আসা শুরু হয়েছে। এ পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমে আসবে। এ পেঁয়াজ শেষ হতে না হতেই রাজশাহীসহ উত্তর অঞ্চলের পেঁয়াজ চলে আসবে।

তিনি মনে করেন, পেঁয়াজের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে তাতে শিগগিরই পেঁয়াজের দাম গত বছরের মতো কমবে না। মৌসুমে বীজের পেঁয়াজ উঠলে দাম কমে আসবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার পাইকারি আড়তে দেশি নতুন পেঁয়াজ ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়। পুরোনো পেঁয়াজ ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় ছিল। তবে চীনা পেঁয়াজ ৯৫ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

এছাড়া বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারে আদা ও রসুনের দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা কমে দেশি রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও চীনা রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দামও কেজিতে ২০ টাকা কমে চীনা আদা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা এবং দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

এদিকে ভারতের পেঁয়াজের প্রধান আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশ। ভারত স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বাজার সামলাতে এখনও হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারতেও পেঁয়াজের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। এতে খুব শিগগিরই দেশটি থেকে আমদানির সুযোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না এ দেশের ব্যবসায়ীরা।

ভারতের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া বাজার, নওদার আমতলা বাজার, কলকাতাসহ বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। পেঁয়াজের ঝাঁজ মানুষকে কাঁদিয়ে ছাড়লেও দেশটির রাজ্য সরকারের গঠিত টাস্কফোর্সের সদস্যরা আশার কথা শোনাতে পারেননি।

টাস্কফোর্সের সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলে বলেছেন, শীতে অন্যান্য সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। এ মাসে পেঁয়াজের সংকট চলবে বলেই আশঙ্কা হচ্ছে। ভারতের নয়াদিল্লিতেও পেঁয়াজের দাম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে।