ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

মশায় পর্যুদস্ত পৌরবাসী, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

মশায় পর্যুদস্ত পৌরবাসী, বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

ফাইল ছবি

সৌমিত্র শীল চন্দন, রাজবাড়ী

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৩ | ২২:৩২

রাজবাড়ীতে মশার উপদ্রবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। মশার কামড়ে মানুষের যন্ত্রণার যেন শেষ নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ মশা নিধনের জন্য কার্যকর তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তারা বলছে মশা নিধনের বাজেট তাদের নেই।

এদিকে রাজবাড়ীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। এমন অবস্থা রাজবাড়ীতে আর কখনও দেখা যায়নি। সরকারি হিসাবেই এ পর্যন্ত রাজবাড়ীতে ১ হাজার ৯০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পৌরবাসী বলছে, শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ঝোপঝাড়, জঙ্গল, নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। পৌরসভার অধিকাংশ নালায় ময়লা-আবর্জনার কারণে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে নালায় জমে থাকা পানি থেকে জন্ম নিচ্ছে মশা। মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে দুপুর থেকেই কয়েল জ্বালানো অথবা মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করতে হচ্ছে। আগে পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলেও এবার করতে দেখা যায়নি।

গত বুধবার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার গোডাউনের সামনে, বাজারের বিভিন্ন স্থানে, নতুন বাজারের সামনেসহ আবাসিক এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। অনেক এলাকার ঝোপঝাড়, জঙ্গল, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। ড্রেনগুলোতে পানিপ্রবাহ না থাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। অনেক এলাকার ড্রেন লাইনের ঢাকনা নেই।

রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফয়েজুল হক কল্লোল জানান, দিনেও মশা, রাতেও মশা। তাদের এলাকায় ঝোপ-জঙ্গল বেশি। পৌর কর্তৃপক্ষ এই বছরে একদিন রাস্তায় ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ দিয়েছিল। কারও বাড়িতে যায়নি। এতে রাস্তার মশা ঘরে চলে এসেছে। এখন সমস্যা আরও বেড়েছে।

রাজবাড়ী শহরের লক্ষ্মীকোল এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর সরকার জানান, তাদের এলাকায় প্রতিটি বাড়িতেই প্রচুর মশা। কয়েকদিন আগে তাঁর স্ত্রী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। ঢাকায় কয়েকদিন চিকিৎসার পর এখন সুস্থ। এলাকার মানুষের মধ্যে মশার আতঙ্ক রয়েই গেছে। তার ছোট ভাইও জ্বরে আক্রান্ত বলে জানান তিনি।

রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১ হাজার ১১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজবাড়ীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২১ জন রোগী। এখন পর্যন্ত ভর্তি আছে ৫৯ জন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ইব্রাহীম টিটন বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত আইনশৃঙ্খলা সভায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এটি নিয়ে কাজ করছে সবাই। মশা মারা বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ পৌরসভার। ব্যক্তি পর্যায়েও এর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তারা মানুষকে সচেতন করার জন্য কাজ করছেন। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রাজবাড়ীতে আছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনীয় ওষুধপথ্যও আছে। বেসরকারি হিসেবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা তাঁর।
রাজবাড়ী পৌর মেয়র আলমগীর শেখ তিতু বলেন, রাজবাড়ী অনেকটাই পরিচ্ছন্ন শহর। বাজারসহ যে নালাগুলো আছে সেগুলো তারা পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। সাধারণ মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখে। নালা তো পানি নিষ্কাশনের জন্য, ডাস্টবিন না। নালায় আবর্জনা ফেলায় পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরিছন্নতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, পৌরসভায় ১৩টি ফগার মেশিন রয়েছে। এরমধ্যে ১০টি অকেজো। ঢাকা থেকে তিন-চারবার লোক এনে মেরামত করিয়েছেন। মেরামতের তিন-চারদিন পরই মেশিন আবার নষ্ট হয়ে যায়। যে তিনটি সচল মেশিন আছে তা দিয়ে মশা নিধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মশা নিধনের জন্য যথেষ্ট বরাদ্দ নেই বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×