ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

এবার দাম বাড়ার তালিকায় ডাল

এবার দাম বাড়ার তালিকায় ডাল

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৯:৪৯ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৫:৩৩

মাস দুয়েক ধরে বেশ অস্থিরতা বিরাজ করছে নিত্যপণ্যের বাজারে। একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ছে। কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, আলুর পর এবার বাড়তি দামের তালিকায় উঠে এসেছে ডাল জাতীয় পণ্য। বিশেষ করে দিন দশেকের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে মসুর ডালের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে পাইকারি বাজারে চিনির বস্তায় বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এ ছাড়া মাঝে কিছুদিন কমে আবার বেড়েছে আলু ও ডিমের দাম। তবে চাল, তেল, সবজিসহ অন্যান্য পণ্য স্থিতিশীল রয়েছে।   

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ ও মহাখালী কাঁচাবাজারে আমদানি করা বড় আকারের মসুর ডাল ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৮ থেকে ১০ দিন আগেও এ ধরনের ডালের কেজি কেনা গেছে ৯০ টাকার আশাপাশে। কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ছোট আকারের দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আজকেরডিল ডটকমে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ফ্রেশ প্রিমিয়াম মসুর ডালের দাম ১৫০ টাকা। 

আমদানি করা মুগ ডাল কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায়। মানভেদে দেশি মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক ধরে ছোলার দাম বাড়তি। কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে দাম উঠেছে ৮২ থেকে ৮৫ টাকা।

বাজারে খোলা মসুর ডালের পাশাপাশি সুপারশপ বা বড় দোকানগুলোতে প্যাকেটজাত ডাল পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৪৫ থেকে ১৭০ টাকায়। মানভেদে মুগডাল ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, মাষকলাই ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ছোলার ডাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প আয়ের মানুষের ডাল হিসেবে পরিচিত অ্যাঙ্কর ডালের কেজি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, গত এক মাসের ব্যবধানে মসুর ডালের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। 

চাহিদা মেটাতে দেশে উৎপাদিত ডালের পাশাপাশি আমদানিও করা হয়। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নেপাল থেকে বিভিন্ন ধরনের ডাল আসে। বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ডলারের সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির একটা প্রভাব আছে ডালের দামে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগেরে বিষয় হলো, বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন– সিটি, মেঘনা, বসুন্ধরা ডালের বাজারে প্রবেশ করার কারণে এ ব্যবসা কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। দাম বাড়ার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রয়েছে। বড়দের কারণে ছোট উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা মার খাচ্ছেন। 

আলু আমদানি করতে হয় না। বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও করা হয়। কোনো কারণ ছাড়াই দুই-তিন মাস ধরে আলুর দাম বেশ ঘন ঘন ওঠানামা করছে। মাঝে কিছুদিন কমে আবার বেড়েছে সবজিটির দাম। প্রতি কেজি আলু মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা দরে। তবে কোথাও কোথাও ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। টিসিবির তথ্য মতে, এক বছরের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ। 

আগস্টের শুরুর দিকে ডিমের দাম নিয়ে বেশ হইচই হয়েছে। প্রতি ডজন রেকর্ড দাম ১৭০ টাকায় উঠেছিল। মাঝে কিছুদিন কমে গত দু’দিন আবার বেড়েছে ডজনে ১০ টাকার মতো। এখন ফার্মের প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতার খরচ পড়বে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা দরে কেনা যাচ্ছে। 

পেঁয়াজের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। দেশি ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি ৯০ থেকে ৯৫ এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। রসুনেও রয়েছে হতাশার খবর। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে এ পণ্যটির দাম। দেশি রসুন ২৩০ থেকে ২৪০ এবং আমদানি করা রসুন ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশে অস্বাভাবিক দাম হওয়ায় কয়েক মাস ধরে ভারত থেকে অবৈধ পথে অবাধে চিনি এসেছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়ায় দেশের সীমান্ত অঞ্চলগুলো দিয়ে চিনি আমদানি করেছে চোরাকারবারিরা। এতে বাজারে চিনির দর কিছুটা কমেছিল। ভারত আগামী অক্টোবর মাস থেকে চিনি রপ্তানি বন্ধ করতে পারে– এমন খবরে পণ্যটির বাজার ফের ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি বাজারে চিনি প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) সর্বোচ্চ ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনও পড়েনি। 

কারওয়ান বাজারের আব্দুর রব স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. নাঈম সমকালকে বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে পাইকারি বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। তবে খুচরা পর্যায়ে আগের দামেই খোলা চিনি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। প্যাকেট চিনিও ১৩৫ টাকা।’ তবে ভোজ্যতেলের দামে পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ভারত চাল রপ্তানি বন্ধ করায় কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত চালের বাজারে তেমন প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। খুচরা ব্যবসায়ীরা মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২, মাঝারি ধরনের চাল ৫২ থেকে ৫৬ এবং চিকন চাল ৬৫ থেকে ৭২ টাকা দরে বিক্রি করছেন। 

সবজির বাজারও উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল রয়েছে। বেশির ভাগ সবজি কেনা যাবে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। তবে বেগুনের দামে কিছুটা হতাশ হবেন ক্রেতারা। গোল বেগুনের কেজি ৮০ এবং লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দাম কম ছিল। কাঁচামরিচের কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। মাছের বাজারে পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ।

আরও পড়ুন

×