ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

রপ্তানি আয়ে বাধা যেন না আসে

রপ্তানি আয়ে বাধা যেন না আসে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রস্তাব দেশের ব্যবসায়ীগণের মধ্যে সংগত কারণেই উদ্বেগ সৃষ্টি করিয়াছে বলিয়া আমরা মনে করি। রবিবার সমকালের এক প্রতিবেদনে যেইরূপ বলা হইয়াছে, গত বৃহস্পতিবার কণ্ঠভোটে গৃহীত প্রস্তাবটিতে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর মামলাকে একটা ‘পশ্চাদ্‌গামী পদক্ষেপ’রূপে উল্লেখ করিয়া বাংলাদেশের জন্য ইইউর অবাধ বাজার সুবিধা ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ (ইবিএ) অব্যাহত রাখার ঔচিত্য লইয়া প্রশ্ন তোলা হয়। ইহার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষত রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের ধারণা, ইইউর সহিত চলমান শুল্কমুক্ত ইবিএ সুবিধার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ‘জিএসপি প্লাস’-সংক্রান্ত আলোচনা ঝুঁকিতে পড়িল। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সিংহভাগ রপ্তানি আয় আসে তৈরি পোশাক হইতে, যাহার অধিকাংশে একক অবদান ইইউর পোশাক বাজারের। মূলত স্বল্পোন্নত দেশের জন্য ইইউ প্রদত্ত জিএসপি সুবিধা এই ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখিয়া চলিয়াছে। তবে ১০ বৎসর মেয়াদি এই সুবিধা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হইবার কথা। ইহার মেয়াদ বৃদ্ধি-সংক্রান্ত একটা খসড়া উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে ২০২১ সালে প্রস্তুত হইলেও ইইউ পার্লামেন্টে অদ্যাবধি পাস হয় নাই। উপরন্তু স্বল্পোন্নত দেশ হইতে উত্তরণের পর ‘জিএসপি প্লাস’ স্কিমের জন্যও বাংলাদেশ ইইউর সহিত বহুদিন যাবৎ দেনদরবার চালাইতেছে। নিঃসন্দেহে জিএসপি বিষয়ে ইইউর নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের তো বটেই, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বিপর্যয় ডাকিয়া আনিবে।

আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সহিত সুর মিলাইয়া দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র ইইউ সাম্প্রতিক সময়ে বহুবার বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি লইয়া উদ্বেগ প্রকাশ করিয়াছে। বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করিবার বিষয়েও তাহারা দৃঢ় অবস্থান লইয়াছে। যেই কারণে আলোচ্য ইইউ প্রস্তাবে যদ্রূপ বিষয়টির পুনরুল্লেখ ঘটিয়াছে, তদ্রূপ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার সহিত সোমবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের বৈঠকেও উহা গুরুত্ব পাইয়াছে। তবে বাংলাদেশ সরকারও দেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদারদের এহেন উদ্বেগ প্রশমনে সচেষ্ট, উহাও আমরা জানি। আমাদের বিশ্বাস, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে সরকার তাহার প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ করিবে না। কারণ, দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও ইহার সহিত জড়িত।

তবে নির্বাচন বা মানবাধিকারের ন্যায় রাজনৈতিক বিষয়গুলির সহিত জিএসপির ন্যায় একান্তই বাণিজ্যিক বিষয়কে যুক্ত করা কতটা সমীচীন, উহাও ভাবিয়া দেখা প্রয়োজন বলিয়া আমরা মনে করি। এই কারণেই ইতোমধ্যে তিন দফা ব্রাসেলসে ইইউ পার্লামেন্টের প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠককালে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ব্যবসা এবং বিনিয়োগকে সকল প্রকার রাজনীতির বাহিরে রাখিবার যেই সুপারিশ করিয়াছেন, উহার গুরুত্বও আমরা অনুভব করি। আমাদের বিশ্বাস, বাণিজ্যকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখিলে দুই পক্ষই লাভবান হইবে। এই জন্য অবশ্য ইইউ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ সরকার উভয়কেই খোলা মনে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি লইয়া আলোচনা করিতে হইবে।

আরও পড়ুন

×