রপ্তানি খাতের সংকট কাটছে না। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ১৩ শতাংশ। একক মাস হিসেবে নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৪ মাস রপ্তানি কমেছে। তবে ডিসেম্বরে একক মাসে কিছুটা বেড়েছে। এ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৩ শতাংশের মতো।

রপ্তানিকারক উদ্যোক্তারা নিকট ভবিষ্যতে আশাবাদী হতে পারছেন না। তারা মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বড় শিল্প গ্রুপ ডিবিএলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি এমএ রহিম ফিরোজ সমকালকে জানান, মার্কিন-মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। ইতোমধ্যে তুলার দাম বেড়ে গেছে। তুলার দর বৃদ্ধি মানে সুতার দর বৃদ্ধি। অর্থাৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। 

তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, ইউরোপগামী কয়েকটি জাহাজে নাশকতা হয়েছে। এর জের তো অবশ্যই পড়বে রপ্তানিতে।

বড় পণ্য হিসেবে তৈরি পোশাকের রপ্তানিই গোটা রপ্তানি চিত্রে পার্থক্য গড়ে দেয়। মোট রপ্তানি আয়ে এ খাতের অবদান ৮৪ শতাংশ। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হাল নাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ মাসে পোশাকের রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ। পোশাক রপ্তানির এই কম আয় আলোচ্য সময়ের সার্বিক রপ্তানি হ্রাসের হারের তুলনায় বেশি। এ সময় সার্বিক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। 

রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়ও একই চিত্র। সার্বিক রপ্তানি কম হয়েছে ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। একক খাত পোশাকের আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হয়েছে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোট এক হাজার ৬০২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ছয় মাসে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭০৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ গত ছয় মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০৬ কোটি ডলার।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সরকারকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে পোশাক রপ্তানি থেকে আসা আয়ে ডলারের বিনিময়ে টাকার মূল্যমান কমানো উচিত, যাতে ডলারের বিপরীতে বেশি টাকা পান উদ্যোক্তারা। পোশাক রপ্তানির ওপর সরকার যে নগদ সহায়তা দিচ্ছে, তা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা আছে সেগুলো দূর করার অনুরোধ করেছে বিজিএমইএ।

অন্যান্য বড় পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়া পণ্যের রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ। হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ খাতে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৯৩০ কোটি ডলারের পণ্য। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল দুই হাজার ৫০ কোটি ডলার। ছয় মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১২০ কোটি ডলার। অন্যদিকে একক মাস ডিসেম্বরে ৩৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৪ শতাংশ কম।

সার্বিক রপ্তানির নেতিবাচক ধারার মধ্যে রপ্তানি বেড়েছে পাট ও পাটপণ্যের। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ২২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রপ্তানি বেশি হয়েছে ২৮ শতাংশ। মোট ৫১ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে এ সময়। গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪২ কোটি ডলার। কাঁচাপাট রপ্তানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশেরও বেশি। বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বিজেএমএর সভাপতি মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারি সমকালকে বলেন, এ বছর পাটের দর ভালো গেছে। এ কারণে রপ্তানি বেড়েছে।