শেয়ারবাজারে 'করোনা আতঙ্ক', ১ ঘণ্টায় সূচক কমলো ২০০ পয়েন্ট

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২০     আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন শনাক্ত হওয়ায় আতঙ্কে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা শেয়ারবাজারকে ঠেলে দিয়েছে বড় পতনের দিকে।

সোমবার সকালে দিনের লেনদেন শুরুর পর এক ঘণ্টা পার না হতেই দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেনে আসা প্রায় শতভাগ শেয়ার দর হারায়। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স কমে যায় ২১০ পয়েন্ট। ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ধস নামার পর গত ১০ বছরে এতোটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

তবে সূচকের পতন ২০০ পয়েন্ট পার হতেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি ব্যাংক শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের পতনও কিছুটা কমে আসছে। পাশাপাশি অনেক শেয়ারের বড় পতনে সুযোগ বুঝে অনেকে শেয়ারও কিনছেন, যা পতন থেকে বেরিয়ে আসার নতুন আশা জাগাচ্ছে।

দিনের লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরুর পরই আতঙ্কে বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন। তবে বিক্রেতা বেশি হলেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতা অনেক কম থাকায় পড়তে থাকে অধিকাংশ শেয়ারের দর। এতে লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে আসা ৩৪৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৩৮টিই দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, যা লেনদেনে আসা মোট শেয়ার ও ফান্ডের প্রায় ৯৭ শতাংশ।

প্রায় সব শেয়ারের দর কমায় ডিএসইএক্স সূচক ২০৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৪ হাজার ৮২ পয়েন্টে নেমে আসে। সূচক পতনের হার ছিল পৌনে ৫ শতাংশ। বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে সূচকটি রোববারের তুলনায় ২০১ পয়েন্ট হারিয়ে ৪ হাজার ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

সূচকের পতন ২০০ পয়েন্ট ছাড়ানোর প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কমাতে ও দরপতন ঠেকাতে আইসিবি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালীসহ একাধিক ব্যাংক শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। মাত্র ২০ মিনিটেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় কিছু শেয়ারের দরপতন কমলে ডিএসইএক্স সূচকটি ৪ হাজার ৭৭ পয়েন্ট থেকে ৪১৫২ পয়েন্টে উঠে আসে। এ সময় সূচকটির অবস্থান ছিল রোববারের তুলনায় ১৩৫ পয়েন্ট নিচে।

রূপালী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শওকত জাহান খান সমকালকে বলেন, 'আমরা শেয়ার কিনে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। সরকারি অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও কথা হচ্ছে। তারাও আজ বড় অঙ্কের শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে।'

তিনি বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারের খারাপ সময়ে সবসময়ই সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক শেয়ার কেনাবেচা করলে পরিস্থিতি খারাপ হবে না।

একই মত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভীর। তিনি বলেন, করোনোভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর এ দরপতনের কারণ। এর মধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) করোনোয় আক্রান্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে কতটা খারাপ প্রভাব ফেলবে- সে বিষয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

তবে এ খবরে আতঙ্কিত না হওয়ার ও ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়ে শাকিল রিজভী বলেন, ক্রমাগত দরপতনের পর এমনিতেই সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর তলানিতে। স্রেফ আতঙ্কে নিজের শেয়ার কম দামে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। আপনার শেয়ারই সুযোগ বুঝে অন্য কেউ কিনে নিচ্ছে। যে কিনছে, সে জানে, পরিস্থিতি এমন থাকবে না। তাই শেয়ার না বিক্রি না করে, বরং টাকা থাকলে এখন শেয়ার কিনে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।