শুরুর অস্থিরতা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেনে বুধবার কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। মঙ্গলবারের মতো বুধবারও সরকারি ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনে বাজার সূচকের হাল ধরার চেষ্টা করছে।

বিপরীতে নানা শঙ্কার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টাও করছেন। উভয় পক্ষের টানাপোড়নে বাজার মূল্য সূচকে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরুর পর দিনের লেনদেনের প্রথম ভাগ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশ ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্য দিয়ে দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শুরুর পর সেকেন্ডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল মূল্য সূচক। মাত্র চার মিনিটের মধ্যে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকালের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়ে ৪২০১ পয়েন্ট পার হয়েছিল। ১০ মিনিটের মধ্যে সূচকটি ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪২১১ পয়েন্ট ছাড়ায়।

এরপর শেয়ার বিক্রির চাপ আসলে নিম্নমুখী হয় সূচক। এক পর্যায়ে সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার মাত্র ১৮ মিনিটের মধ্যে ৫৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৪১৫৫ পয়েন্টে নেমে যায়, যা গতকালের থেকে দেড় পয়েন্ট কম।

এর পর আবার আগ্রাসীভাবে শেয়ার কিনে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৃহৎ মূলধনী কোম্পানির শেয়ার কিনে সূচকের পতন ঠেকিয়েছে। লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টায় ঊর্ধ্বমুখী ধারা পুনরায় ফিরে আসতে দেখা গেছে শেয়ারবাজারে।

এ সময় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৮ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৩১টির বা ৭০ শতাংশের দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৪৭টি, বাকি ৫০টির দর ছিল অপরিবর্তিত।

ডিএসইএক্স সূচক ৪৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়ে ৪১৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। প্রথম ঘণ্টায় এ বাজারে কেনাবেচা হওয়া সব শেয়ার ও ফান্ডের বাজার মূল্য ছিল ১৩০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

মঙ্গলবারের লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায়ও এমন অস্থিরতা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বড় উত্থান দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছিল।

এদিকে প্রথম ঘণ্টায় চট্টগ্রামকেন্দ্রীক শেয়ারবাজার সিএসইর লেনদেন চিত্রও ছিল প্রায় একই রকম। তবে এ বাজারের সূচকের ওঠানামা ছিল ডিএসইর তুলনায় কম।

প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে সিএসইতে ১৩৭ কোম্পানির শেয়ার ও ফান্ড কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৮৯টি, দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ২৬টি। বাকি ২২টির লেনদেন মূল্য ছিল আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইজের সমান অর্থাৎ অপরিবর্তিত।

এ বাজারের প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সূচক বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।