নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি শেয়ারবাজারের লেনদেন

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০     আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২০   

 সমকাল প্রতিবেদক

নির্ধারিত সময়ে দুই শেয়ারবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই ও সিএসই) লেনদেন শুরু হয়নি। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বলছে, কারিগরি সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ডিএসইর লেনদেন বেলা ২টায় শুরু হয়। সিএসইতে ১টায় শুরু হলেও তা কিছুক্ষণ পর আবার বন্ধ হয়। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মুখপাত্র সাইফুর রহমান সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএসই সূত্র জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ১০টা লেনদেন শুরু করতে না পেরে, তা ১১টায় নির্ধারণ করা হয়। ১১টার মধ্যে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না জেনে, তা সাড়ে ১১টায় পুনঃনির্ধারণ করা হয়। পরে আবার সময় পরিবর্তন করা হয়।

করোনা আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধরে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ দরপতন চলছে। সর্বশেষ চার কার্যদিবসেই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৩৪ পয়েন্ট বা সাড়ে ১৪ শতাংশ পতন হয়েছে।

সূত্র জানায়, এ পতনের মাত্রা কমিয়ে আনতে সব শেয়ার বা নির্দিষ্ট কিছু শেয়ার দরের ওপর ৫ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হতে পারে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ারের দর আগের দিনের ক্লোজিং প্রাইসের তুলনায় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।

বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত দর হলে ওই সব শেয়ারের ওপর সার্কিট ব্রেকার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার ৮দশমিক ৭৫ শতাংশ। ৫০০ টাকার বেশি থেকে এক হাজার টাকা দামের শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এক হাজার টাকার বেশি থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, দুই হাজার টাকার বেশি থেকে পাঁচ হাজার টাকার শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশ। ৫ টাকার বেশি দামি শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

চলতি দরপতন কমাতে সার্কিট ব্রেকার সংশোধন করার কাজ চলছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের লেনদেনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠক করে। তারা লেনদেন চালু রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে লেনদেন সময়সীমা ৪ ঘণ্টার স্থলে ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় দিনের লেনদেন শুরু হয়ে দুপুর দেড়টায় শেষ হওয়ার কথা ছিল।