ক্রেতা সংকটেই চলছে শেয়ারবাজার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০     আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ক্রেতা সংকটের মাঝেই কেনাবেচা চলছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। এ ছাড়া করোনা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও খুবই কম। ফোনে ফোনেই শেয়ার কেনাবেচা করছেন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী।

সোমবার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে প্রথম দেড় ঘণ্টার লেনদেন শেষে বেলা দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৪৬ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচায় আসে। এর মধ্যে ২০০টিরও বেশি শেয়ারে বিপুল সংখ্যক বিক্রির আদেশ থাকলেও ক্রয় আদেশের ঘর শূন্য দেখা যায়। একই চিত্র দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে।

এদিকে রোববারের মত আজও কতটি শেয়ারের দর বেড়েছে বা কমেছে, তা প্রকাশ করছে না ডিএসই। রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পরই এ তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ বন্ধ করা হয়।

তবে স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টায় ডিএসইতে ৮১টি শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৪২টি শেয়ার। আর দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ২২৩টি। মূলত দর অপরিবর্তিত থাকা শেয়ারগুলোতেই ক্রেতা সংকট রয়েছে।

করোনা আতঙ্কে দরপতন ঠেকাতে সব শেয়ারের সর্বনিম্ন দর (ফ্লোর প্রাইস) বেঁধে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এ কারণে লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারের দর সীমা না থাকলেও ফ্লোর প্রাইসের নিচে কেনাবেচা হচ্ছে না মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার। ব্যাংক এশিয়ার পর্ষদ গত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পর্ষদ ১১ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ফ্লোর প্রাইসের নিচে শেয়ার কেনাবেচা না হওয়ায় এবং কিছু শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার ডিএসইর সূচক কিছুটা বেড়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৩ হাজার ৯৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১৬৪ কোটি টাকা।

বেলা সাড়ে ১১টর পর ডিএসইর লেনদেন পর্যবেক্ষণে যেসব শেয়ারে যথেষ্ট ক্রেতা ও বিক্রেতার দেখা মিলেছে, সেগুলো হলো- ওয়াটা কেমিক্যাল, উত্তরা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ফামা এইডস, ওরিয়ন ফার্মা, ওরিয়ন ইনফিউশনস, ন্যাশনাল টিউবস, মুন্নু স্ট্যাফেলার্স, মুন্নু সিরামিক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, কেএন্ডকিউ, জেএমআই সিরিঞ্জেস, যমুনা ব্যাংক, ইনফরমেশন সার্ভিসেস, ইবনে সিনা, জিকিউ বলপেন, দেশ গার্মেন্টস, ডেফোডিল কম্পিউটার্স, বিডি অটোকার, বঙ্গজ, আজিজ পাইপস, এক্মি ল্যাবরেটরিজ, এসিআই লিমিটেড।

অল্প সংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতার দেখা মিলিছে যেসব শেয়ারে, সেগুলো হলো- ট্রাস্ট ব্যাংক, সোনালী আঁশ, সিলভা ফার্মা, শমরিতা হাসপাতাল, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, জেমিনি সী ফুডস, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, এপেক্স ফুটওয়্যার, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এমবি ফার্মা, এবি ব্যাংক।

এছাড়া ২০০টির ওপর শেয়ার যখন ক্রেতা নেই, তখন উল্টো চিত্র দেখা গেছে সেন্টাল ফার্মা, বিডি ওয়েল্ডিং, এসিআই ফর্মুলেশনসের ক্ষেত্রে। এসব শেয়ারে বিপুল ক্রয় আদেশের বিপরীতে বিক্রেতার ঘর শূন্য।

অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে দেড় ঘণ্টার লেনদেন শেষে দেখা গেছে, এ সময় পর্যন্ত এ বাজারে মোট ১৪৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়ে ৩৪টি ও দর হারিয়ে ৯টি কেনাবেচা হচ্ছিল। আর গতকালের দরে অপরিবর্তিত থেকে কেনাবেচা হচ্ছিল ১০৪টি শেয়ার।

কিছু শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বাজারের সূচক সিএসসিএক্স ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮১০ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। প্রথম দেড় ঘণ্টায় এ বাজারে কেনাবেচা হয় ৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার।

করোনো আতঙ্কের কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেন চার ঘণ্টার স্থলে নামিয়ে আনা হয়েছে। রোববারের মত সোমবারও দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শেয়ার কেনাবেচা চলবে।