সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে তুলতে হবে লকডাউন : এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২০     আপডেট: ০৬ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ

কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেছেন, করোনা মহামারীর এই সময়ে বাংলাদেশকে সতর্কতার সঙ্গে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নিতে হবে। সাবধানতার সঙ্গে এমনভাবে এক্সিট কৌশল তৈরি করতে হবে, যাতে আর্থ-সামাজিক কার্যক্রমে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার সঙ্গে সুসমন্বয় করে করোনাভাইরাসের বিস্তারও ঠেকানো যায়।

মঙ্গলবার একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনমোহন প্রকাশ এ কথা বলেন। 

মনমোহন বলেন, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু করতে এখনই করোনা মোকাবিলায় নেওয়া বিধিনিষেধ শিথিল করা প্রয়োজন কিনা। তবে সেক্ষেত্রে সাবধানতার সঙ্গে কাজ করাই উচিত হবে। যেহেতু মহামারীর প্রকটতা আরও কতদিন থাকবে তা বলা অনিশ্চিত। 

তিনি আরও বলেন,  দেশের অর্থনীতিকে ফের সচল করা এবং ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ উভয়ক্ষেত্রেই একসঙ্গে স্বাস্থ্যসম্পর্কিত এবং স্বাস্থ্যখাতের বাইরে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসম্পর্কিত কার্যক্রম হতে পারে স্বাস্থ্যসেবা, প্রক্রিয়া ও সরবরাহ বাড়ানো। এর বাইরে অস্বাস্থ্যখাতের কার্যক্রম হতে পারে সরবরাহ ব্যবস্থা বিশেষ করে অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা, জীবিকা, উৎপাদন চালু করা এবং গ্রামাঞ্চল থেকে ঢাকায় কাজ করতে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের পরিচালনা করা। 

কীভাবে বর্তমান লকডাউন ব্যবস্থা তুলে নেওয়া যায়-এমন এক প্রশ্নের জবাবে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, সাবধানতার সঙ্গে প্রায়োগিক উপায়ে শাটডাউন তুলে নেয়া যেতে পারে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচলের পাশাপাশি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে মৌলিক স্বাস্থ্য নির্দেশনা বজায় রাখা যেতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান শাটডাউন অবস্থা ভয়ানকভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিশেষ  করে কর্মসংস্থান ও জীবিকার উপর প্রভাব ফেলছে। দরিদ্র ও দুর্বল শ্রেনি লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও জনসাধারণকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং রোগের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউন জরুরি ছিল। 

তিনি আরও বলেন, মহামারীর গতিপ্রকৃতির নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না এবং একই সঙ্গে লকডাউন তুলে নেওয়ার সময়সীমাও আন্দাজ করা মুশকিল।