২ মাস পর শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু

প্রকাশ: ৩১ মে ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

দুই মাস পর দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে আজ। ব্রোকারেজ হাউস সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন বা অন্য মাধ্যমে গ্রাহকরা শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দিচ্ছেন। পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সকলে জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মহামারিতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৫ মার্চের পর থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষও ওই ছুটির সঙ্গে মিল রেখে লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ রাখে। ৩০ মের পর সাধারণ ছুটি না বাড়ানোর ঘোষণা আসায় স্টক এক্সচেঞ্জ লেনদেন শুরুর প্রস্তুতি নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও এ বিষয়ে অনাপত্তি দেয়।

আজ থেকে লেনদেন শুরু হলেও প্রতিদিন তিন ঘণ্টা লেনদেন হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হয়েছে। শেষ হবে দেড়টায়। স্বাভাবিক সময়ে দিনে চার ঘণ্টা লেনদেন হয়। তবে করোনা প্রাদুর্ভাবের পরই লেনদেন সময় তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়েছিল।

পুনরায় লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার বেধে দেওয়ার ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হচ্ছে এবং বিপুল বিক্রয় আদেশের বিপরীতে কোনো ক্রয় আদেশের দেখা মিলছে না।

তবে এর মধ্যেও কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এমনকি এসিআই লিমিটেড, এসিআই ফর্মুলেশনস, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মার মত কিছু কোম্পানির শেয়ারের বিপুল ক্রয় আদেশের বিপরীতে এসব শেয়ারের বিক্রেতা শূন্য অবস্থা দেখা যাচ্ছে। প্রায় একই অবস্থা দেখা গেছে পিএফ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড ও সেন্ট্রাল ফার্মার শেয়ারে।


প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে যথেষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতা দেখা গেছে উত্তরা ব্যাংক, শাহজিবাজার পাওয়ার, মুন্নু সিরামিক, লিনডে বিডি, ইন্দোবাংলা ফার্মা, গ্রামীণফোন, বারাকা পাওয়ার কোম্পানির।

অল্প ক্রেতা দেখা গেছে সামিট পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, সিলভা ফার্মা, রেকিট বেনকিজার, ফার্মা এইডস, এনসিসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, জেএমআই সিরিঞ্জেস, দেশ গার্মেন্টস, সিটি ব্যাংক, বিডি ওয়েল্ডিং, এমবি ফার্মা, এডভেন্ট ফার্মা, এক্‌মি ল্যাবরেটরিজের।

প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২৭১ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ৫১টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৫৬টি এবং ফ্লোর প্রাইসে বা দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে ১৬৪টি শেয়ারের দর।

তবে বৃহৎ মূলধনী কিছু শেয়ারের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। যদিও লেনদেনের প্রথম ১৫ মিনিটে ১০ পয়েন্ট হারিয়ে ৩৯৯৮ পয়েন্টে নেমেছিল।

প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে ৫৭ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, ইন্দোবাংলা ফার্মা, গ্রামীণফোন, ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার।

দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে প্রথম ঘণ্টা শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় ১৪টি শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৯টি শেয়ার। দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ২৮টি। অর্থাৎ ৫১টি শেয়ারের লেনদেনে এসেছিল। এ সময় পর্যন্ত কেনাবেচা হয় ১ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার।