করোনা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের ১০৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২০     আপডেট: ২০ জুন ২০২০   

বিশেষ প্রতিনিধি

মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের তিনটি প্রকল্পে ১০৪ কোটি ৫০ লাখ  ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যার পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। 

শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক বোর্ড সভায় এই অনুমোদন হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।  

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, এই সহায়তা অভূতপূর্ব সংকটের প্রতি একটি ব্যতিক্রমধর্মী সাড়া। এই মহামারি এদেশের জনসাধারণের জীবিকাসহ অনেক উল্লেখযোগ্য অর্জনকে পিছিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের এসব প্রকল্প আরও বেশি ও আরও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে  বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে এবং একইসঙ্গে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়বে। 

‘বেসরকারি বিনিয়োগ ও ডিজিটাল উদ্যোগ’ নামের একটি প্রকল্পে  ৫০ কোটি ডলার অনুমোদন করা হয়েছে।  প্রকল্পটি নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্কে ২শ’ কোটি ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং এসব অঞ্চলের সামাজিক ও পরিবেশগত মান জোরদার করবে।

ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি নামের একটি প্রকল্পে ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মাধ্যমে সরকারের সব সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করবে এবং সাইবার নিরাপত্তার উন্নতি ঘটাবে। ২৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়েছে দ্বিতীয় কর্মসূচিভিত্তিক কর্মসংস্থান উন্নয়ন নীতি ঋণ প্রকল্পে। এই প্রকল্প  করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপের সহায়তার জন্য সরকারের আর্থিক সংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধার  এবং ভবিষ্যতের অভিঘাত মোকাবিলায় শ্রমজীবী এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।  

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংক এদেশের প্রথম পর্যায়ের উন্নয়ন সহযোগীদের অন্যতম। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ কর্মসূচির শীর্ষ পর্যায়ের গ্রাহক, যার পরিমাণ ১৩শ’ কোটি  ডলারের বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক এ পর্যন্ত বাংলাদেশের অনুকূলে ৩ হাজার ১শ’ কোটি ডলারের বেশি অনুদান, সুদবিহীন এবং রেয়াতি সুদের ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।