গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সিপিডির হিসাব সঠিক নয়। কারণ, তাদের হিসাব আন্দাজ নির্ভর। আর বিবিএস যে হিসাব করেছে তা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। কিসের ভিত্তিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হিসাব করেছে তা জানতে চান অর্থমন্ত্রী।
সোমবার চলতি অর্থবছরের কর আদায় পর্যালোচনা সংক্রান্ত ভার্চুয়াল সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিপিডি গত ১০ বছরে আমাদের তথ্য-উপাত্ত কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা তাদের ব্যবসা। যত বেশি নেতিবাচক বলবে তত বেশি লাভবান হবে তারা। এ জন্য সব সময় নেতিবাচক বলে সংস্থাটি।
তিনি বলেন, সারা বছর কোনো খবর নেই। বাজেট দিলেই তাদের একটা অনুষ্ঠান করার সময় এসে যায়। তাদের তথ্য আন্দাজ নির্ভর। আমাদের হিসাব দিয়েছি তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে।
সম্প্রতি পরিসংখ্যান ব্যুরো বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে গতবার দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তথা জিডিপি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, যা মূল লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এরপর রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায় গবেষণা সংস্থা সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, বিবিএস যে হিসাব প্রকাশ করেছে তা অর্থনীতির প্রকৃত বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের পরিসংখ্যান দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং জিপিডির প্রবৃদ্ধি এখন একটা রাজনৈতিক সংখ্যায় পরিণত হয়েছে। এজন্য পরিসংখ্যানের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিও তোলে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে সোমবার সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিপিডির কাছে তথ্য কোথায় আছে? কোনো তথ্য তারা রাখে? তাহলে তারা এসব কিসের ভিত্তিতে বলছে। তারা আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো দেখে না? আমাদের মেগা প্রজেক্টগুলো দেখে না? সবকিছু তারা দেখতে পায়, তারা যদি আমাদের রাজস্বের দিকে তাকাতো তা হলে এসব বলতে পারতো না।
তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে পরিমাণ আমরা রাজস্ব আহরণ করেছি গত ২০১৯-২০ অর্থবছরেও তার কাছাকাছি রাজস্ব আহরণ হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল। আর করোনাকালেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ হয়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। মাত্র পাঁচ হাজার কোটি টাকা কম। সুতরাং এ থেকেই তো বোঝা যায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি কেমন হওয়ার কথা। আমি যদি আগের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৮ দশমিক ২ শতাংশ বলতাম, তাহলেও তারা বলতে পারতো এটা কিভাবে হলো? আমি তো ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বলিনি। আমি ৫ দশমিক ২ শতাংশ বলেছি। সিপিডি সবসময় আন্দাজে কথা বলে। এ বিষয়ে আমি আর কথা বলতে চাই না।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমি যা বলেছি যথার্থ। ওদের তাহলে আমাদের এক বছরের জিডিপি বের করে দিতে বলেন। আমাদের পরিসংখ্যান অফিস যেতে পারবে না, তারা নিজেরা পরিসংখ্যান দিক।' মন্ত্রী বলেন, সিপিডি তাদের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করবো।