পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমছে

খুচরায় প্রভাব পড়েনি

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

দাম নির্ধারণের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গতকাল পাইকারিতে আলুর দর কিছুটা কমেছে। তবে খুচরা বাজারে এর কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে আদার দাম, বেড়েছে মসুর ডালের দাম। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গতকাল রাজধানীর বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি ডায়মন্ড ও গ্রানুলা জাতের গোল আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। আর পাকড়ি জাতের ছোট লাল গোল আলু বিক্রি হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি। যদিও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, খুচরায় ৩০ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকায় আলু বিক্রি হওয়ার কথা।

গতকাল রাজধানীর পাইকারি আড়ত কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মিরপুর-১নং শাহ আলী মার্কেটে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমে রাজশাহীর আলু ৪৪ টাকা, লাল বড় আলু ৪২ টাকা ও মুন্সীগঞ্জের আলু ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। এই আলু দু'দিন আগেও যথাক্রমে ৪৬ টাকা, ৪৫ টাকা ও ৪৩ টাকা ছিল। আর পাকড়ি জাতের ছোট লাল আলুর কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা ছিল।

কারওয়ান বাজারের আড়তে বিক্রমপুর ভাণ্ডারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সবুজ মিয়া জানান, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় আলুর চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে হিমাগারে দাম বেড়েছে। ফলে আড়তেও আলুর দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন সরকার দাম নির্ধারণের পর কিছুটা কম দামে হিমাগার থেকে আলু বিক্রি হচ্ছে। এ কারণে আড়তে দাম কমছে। তবে বেশি দামে আলু কিনে নির্ধারিত দরে বিক্রি করা কঠিন।

হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, আলুর দাম বেঁধে দেওয়ার কারণে হিমাগারে আলু বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আলু কিনতে চাচ্ছেন না আড়তদাররা। তারা আগে কেনা আলু বিক্রি শেষ করতে চান। তারপর হিমাগারে নতুন আলুর অর্ডার দেবেন। তিনি আরও বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু  বিক্রি করা কঠিন। কারণ মৌসুমে আলু কেনা এবং সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দাম নির্ধারণ করা উচিত।

আলুর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে আগাম আলু চাষ হয়নি। এ করণে নতুন আলু এবার ডিসেম্বরে আসবে না। ফলে জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে আলু উঠবে। এই বাড়তি সময়ে আলুর ঘাটতি হতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে দাম বাড়ছে। এ ছাড়া গত মৌসুমে আলু উৎপাদন কম হয়েছে। এবার করোনা মহামারিতে ত্রাণ হিসেবে আলু বিতরণ হয়েছে অনেক। এখন সবজির বাজার চড়া থাকায় আলুর চাহিদাও বেশি। এসব কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে।

অন্যান্য সবজি আগের সপ্তাহের দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা। দাম কমে কাঁচা পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটোলের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তবে কাঁচামারিচের কেজি এখনও ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বাজারে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডিম। প্রতি হালি ফার্মের ডিম ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা। খুচরা দোকানে ৪০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা জানান, আলু, সবজি ও ডিমের চড়া দামের কারণে বাড়ছে মসুর ও মুগডালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বড় দানা মসুর ডাল এখন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, মাঝারি দানা মসুর ডাল ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা ও ছোট দানা মসুর ডাল ১১০ থেকে ১১৫ টকায় বিক্রি হচ্ছে। মুগডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১১৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ও রসুনের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কমেছে আদার দাম। কেজিতে ২০ টাকা কমে আমদানি করা আদা ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি আদা ১০০ থেকে ১৬০ টাকা।