দেশের ব্যাংকগুলোতে সাইবার হামলার আশঙ্কা, সতর্কতা

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২০     আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

দেশের ব্যাংকগুলোর ওপর নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘বিগল বয়েজ’। গ্রুপটি আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ও সুইফট নেটওয়ার্কে হ্যাকিং করতে পারে।

সতর্কতায় ব্যাংকগুলো অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থা ও এটিএম বুথে নজরদারি বাড়িয়েছে। রাতে এটিএম বুথ বন্ধ রাখার পদক্ষেপও নিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক।

চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এটিএম বুথ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। রূপালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আতাউর রহমান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রহমতুল্লাহ সরকার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সব বিভাগ, জোনাল অফিস, করপোরেট শাখাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ব্যবস্থা নিয়েছে আরেক রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকও। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম সমকালকে বলেন, যেকোনো ধরনের সাইবার হামলা মোকাবিলার জন্য সবসময়ই ব্যাংকগুলো সতর্ক রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পরপরই প্রয়োজনীয় অন্যান্য সতর্কতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে এ নির্দেশনা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পৌঁছেনি। মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সতর্কতামূলক নির্দেশনা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাংকে এসে পৌঁছেনি। তবে ব্যাংকগুলো যেকোনো ধরনের সাইবার হামলা ঠেকানোর মতো সতর্ক ও প্রস্তুতিতে রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে ব্যাংকগুলোর ওপর নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে অনেক ব্যাংক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা সীমিত করে। আবার কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। তবে ওই সময় কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। ওই গ্রুপই নতুন করে হামলা চালাতে পারে বলে তথ্য এসেছে।