এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও রপ্তানিতে শুল্ক্কমুক্ত সুবিধা ১২ বছর অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন এলডিসি গ্রুপ। একই সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা একসঙ্গে বাতিল না করে ধাপে ধাপে বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব আইন পালন থেকে অব্যাহতি পূর্ণ মেয়াদ ভোগ করার প্রস্তাব করেছে এই গ্রুপ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি এসব প্রস্তাব দিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। চিঠিতে চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এলডিসি থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় থাকা দেশগুলোর অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ডব্লিউটিওর আগামী মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হয়ে যায়। শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্ক উত্তরণের পর এলডিসিকে অতিরিক্ত তিন বছর বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে থাকে। এলডিসি গ্রুপের প্রস্তাব  কার্যকর হলে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করতে পারবে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বের হওয়ার কথা। বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধাসহ এলডিসির জন্য বিদ্যমান সুবিধা যাতে ভোগ করা যায়, সে জন্য ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশসহ অন্য এলডিসিগুলো। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধা বাতিল হলে বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ করাসহ পণ্য ও রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণের নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর আরও ১২ বছর বিদ্যমান শুল্ক্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সুবিধা একসঙ্গে বাতিল না করে পর্যায়ক্রমে বাতিল করার কথা বলেছে। তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর জন্য সার্ভিস ওয়েভার সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল আছে। এ সুবিধাও পূর্ণ মেয়াদে ভোগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ডব্লিউটিওতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ করেছে- এমন দেশগুলোর বাণিজ্য ও উন্নয়নে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর একটি দেশ আন্তর্জাতিক অনেক সহায়তা হারায়, যা দেশটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রভাব রাখে। ফলে এ ধরনের সুবিধা হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। যে দেশ এলডিসি থেকে বের হচ্ছে, তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা দরকার।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এই মহামারির কারণে দেশগুলোর কর্মসংস্থান, আয় ও সঞ্চয় কমে গেছে। অর্থনীতিতে দুর্বলতা বেড়েছে। জাতীয় আয় কমছে। কিছু এলডিসি এ অবস্থায় উত্তরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে। আর যারা উত্তরণ নেবে, তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।