গত বছরের শেষ দিনের মতো নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবসেও দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় শেষ হলো লেনদেন। রোববার বছরের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দরই বেড়েছে। এতে এই দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সবগুলো সূচকই এদিন ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

রোববার দিনের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ৩৬১টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৫৩টির এবং দর কমেছে ৫৮টির। এ ছাড়া আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে ৫০টি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত বছরের শেষ দিনে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল, রোববার নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবসে যা আরও বেড়ে দুই হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির প্রভাবে রোববার ডিএসইর সবগুলো সূচকেই দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। এদিন ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ২১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬১৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ডিএসইএস সূচক ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৯৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই৩০ সূচক ১১৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৭৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

এদিকে ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও রোববার লেনদেন হওয়ার বেশিরভাগ শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে। এই স্টক এক্সচেঞ্জ এদিন ২৮৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়, যার মধ্যে দর বেড়েছে ২০৬টির ও কমেছে ৪১টির। আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে ৩৬টি।

বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় ডিএসইর মতো সিএসইর সবগুলো সূচকও এদিন ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এদিন সিএসই৫০ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৬৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২২৬ পয়েন্টে, সিএসই৩০ সূচক ৬০১ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ২৮ পয়েন্টে, সিএসইএক্স সূচক ৪০৬ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৮১০ পয়েন্টে, সিএএসপিআই সূচক ৬৭২ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে ও সিএসআই সূচক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

সিএসইতে রোববার ৬৭ কোটি ২৭ লাখ টাকারও বেশি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠনের পর তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে। গত বছরের শেষ দিকের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নতুন বছরে পুঁজিবাজার আরও ভালো হবে- বিনিয়োগকারীদের এমন আশাবাদেই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।