বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা পাটপণ্যে ২০১৭ সাল থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বসিয়ে রেখেছে ভারত। এর ফলে প্রধান বাজারটিতে এর রপ্তানি কমে গেছে। ভারতের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছে। আজ সোমবার ঢাকায় দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

অবশ্য এ বৈঠকের আগে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সফররত ভারতের বাণিজ্য সচিব অনুপ ওয়াধওয়ান দেখা করেন। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পাটপণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং নিয়ে কথা হয়েছে। বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পাটপণ্যে রপ্তানিতে ভর্তুকি কমানোর সুপারিশ এসেছে। তিনি আরও জানান, আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান না হলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আপিল করবে বাংলাদেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশ, পাটজাত চূড়ান্ত পণ্যে ১২ শতাংশ ও পাট সুতায় ৭ শতাংশ নগদ ভর্তুকি রয়েছে। ভারতের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের একটি অংশ অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা তাদের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য সরবরাহ করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সে দেশের অ্যান্টি-ডাম্পিং অ্যান্ড অ্যালাইড ডিউটিজ (ডিজিএডি) অধিদপ্তর ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষামূলক শুল্ক আরোপের সুপারিশ করে। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ভারতের রাজস্ব বিভাগ অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপের গেজেট প্রকাশ করে। বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠান ভারতে পাটসুতা, চট ও বস্তা রপ্তানি করলে প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার শুল্ক দিতে হচ্ছে।

গতকাল সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে টিপু মুনশি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ভারতের সঙ্গে পুরোনো অনেক সমস্যার সমাধান হবে। ভারত কাস্টমস ও বেনাপোল বন্দরের সমস্যার কথা বলেছে এবং আখাউড়া ও আগরতলা বন্দর চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন করে তিনটি বর্ডারহাট শিগগিরই চালু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ১০ থেকে ১২টি দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বা পিটিএ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করেছে। ভারতের সঙ্গে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ: বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে গত বছরের দ্বিগুণ পণ্য রমজানে সরবরাহ করা হবে।