ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

জবাবদিহি না থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হয় না

জবাবদিহি না থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হয় না

ড. শামসুল আলম

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩ | ২২:৪৩

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি না থাকলে মুনাফা নিশ্চিত হয় না। তেমনি অর্থনৈতিক উন্নয়নে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিকল্প নেই। 
টেকসই উন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্যই নির্বাচন থাকা দরকার। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ কী চায়, তা জানা যায়। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘জবাবদিহি ও টেকসই উন্নয়ন : বাস্তবায়ন অগ্রগতি’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইসিএবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বেসরকারি কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য থাকে মুনাফার লক্ষ্য অর্জন করা। তবে সার্বিক টেকসই 
উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে সামাজিক ও পরিবেশগত দিকগুলো বিবেচনায় রাখা উচিত এবং এ জন্য তারা কী করছে, সে বিষয়ে বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা উচিত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শামসুল আলম আরও বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি না থাকলে মুনাফা নিশ্চিত হয় না। তেমনি টেকসই উন্নয়নের জন্যও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। দুর্নীতি কমাতে না পারলে উন্নয়ন টেকসই করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শামসুল আলম বলেন, জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্টের (এমডিজি) পর এখন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে কাজ করছে সরকার। এখানে যে ১৭টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া ১১টি প্রস্তাবের মধ্যে ১০টির প্রতিফলন আছে। কডিড-১৯ অতিমারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এসডিজি অর্জনে কিছুটা সমস্যা তৈরি করেছে। তারপরও বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, যেমন– ভারত ও পাকিস্তান থেকে অনেক এগিয়ে। ১৯১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০১তম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পেশাদার নিরীক্ষকরা বেসরকারি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের স্বার্থে তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, টেকসই উন্নয়নের ধারণা বেশিদিনের না হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন টেকসই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে যেমন উদ্বেগ আছে, তেমনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেকসই রিপোর্টিং পদ্ধতিতে ঘাটতি আছে। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আশার কথা, অনেক প্রতিষ্ঠান টেকসই প্রতিবেদন দেওয়া শুরু করেছে। টেকসই প্রতিবেদন এবং নিশ্চয়তা এজেন্ডায় অর্থ ও নিরীক্ষা পেশাদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
আলোচনায় আইসিএবির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে একটা বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। সরকার থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ধারা টেকসই করতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়নের লক্ষ্য ধরে রাখতে পরিবেশগত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক চাহিদাগুলোও বিবেচনায় রাখতে সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সচেতন হচ্ছে। 

ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, উন্নয়নের ধারা দীর্ঘস্থায়ী না হলে তাকে টেকসই উন্নয়ন বলা যায় না। দীর্ঘ মেয়াদে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
আইসিএবির সিইও শুভাশীষ বোস বলেন, টেকসই আর্থিক প্রতিবেদন টেকসই উন্নয়নের গতিকে বাড়িয়ে দেয়। এটি সংশ্লিষ্ট সবার সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহযোগিতা করে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউজিল্যান্ডের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটনের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের একাডেমিক প্রোগ্রাম লিডার ড. ইয়াংকা মোজেস। তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকা একক কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। জবাবদিহি শুধু কী করছেন তার ওপর নয়, কী করার কথা ছিল কিন্তু করছেন না, তার ওপরও দরকার।
ইয়াংকা মোজেস বলেন, এসডিজি অর্জন শুধু সরকারের বিষয় নয়, এটা সবার বিষয়। বেসরকারি কোম্পানিগুলো মুনাফার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এসডিজি নিয়ে কাজ করলে সমাজ ও মানুষের উন্নয়ন হয়। একটি কোম্পানি যখন বেশি বেশি কর্মী নিয়োগ করে, তখন একদিকে দারিদ্র্য হ্রাস ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়ার কাজে সহায়তা করে; আবার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যখন দক্ষতা বৃদ্ধি করে, তখন শোভন কাজের লক্ষ্যও অর্জন হয়। 

আরও পড়ুন

×