টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ আনোয়ার দুবাই আসবেন। ভিসা বাবদ আড়াই লাখ টাকা পরিশোধও করেছেন। অপর প্রান্ত থেকে নিয়মিত আশ্বাস আসছে তার কাছে। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাবেন। কিন্তু সেই ভিসা আর পাচ্ছেন না আনোয়ার। 

ফেনীর মোহাম্মদ তারেক খানের বাবার ব্যবসা আছে দুবাইয়ে। তিনিও দুবাই আসতে আগ্রহী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আইডি থেকে তাকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

আমিরাতের বাইরের লোকদেরও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা হচ্ছে জানিয়ে তারেক কিছু প্রমাণপত্রও পাঠায়। আনোয়ার ও তারেকের দেওয়া এই তথ্যর ওপর ভিত্তি করে সমকাল বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে। যোগাযোগ করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকটি জনশক্তি প্রতিষ্ঠান ও টাইপিং সেন্টারে। এসব প্রতিষ্ঠান জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য কোনো ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ভিসাই ইস্যু হচ্ছে না। এমনকি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য গত ২৮ মে থেকে ভ্রমণ ভিসাও স্থগিত করেছে আমিরাত।

জানা গেছে, করোনার কারণে ১২ মে থেকে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে দেশটি। এরই সূত্র ধরে স্থগিত করা হয় নতুন ভ্রমণ ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া। একদিকে ফ্লাইট বন্ধ, অন্যদিকে ভ্রমণ ভিসা স্থগিত। এই দুটি খবরে আমিরাত যেতে ইচ্ছুকদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। তাই দালালচক্র ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নামে নতুন করে ফাঁদ পাতে। ভিসা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে নিতে শুরু করে মোটা অঙ্কের টাকা। তাদের এই ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন আমিরাত যেতে ইচ্ছুক আনোয়ার ও তারেকের মতো অনেকেই।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জনশক্তি কোম্পানি অ্যাডিকোর ভিসা বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ ইসমাঈল সমকালকে জানান, আমিরাতের বাইরে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কোনো ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইস্যু হচ্ছে না। তবে দেশটির অভ্যন্তরে থাকা ভিজিট ভিসাধারীরা চাইলে নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারছেন। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে 'ইউআইডি নম্বর' প্রয়োজন হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে এই নম্বর পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ভিজিট ভিসায় আমিরাতে থাকা বাংলাদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইস্যু করার সময় কারও কারও ক্ষেত্রে 'আউটসাইট কান্ট্রি' লেখা দেখায়। কিন্তু তারা আমিরাতের অভ্যন্তরে থেকেই ভিসার আবেদন করছেন। এই বিষয়টিকে পুঁজি করেই মূলত প্রতারক চক্র দেশের বাইরে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার গুজব ছড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

ট্রাভেলস ব্যবসায়ী ওসমান হক বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের নতুন ভিসা প্রদান বন্ধ। ভিজিট ভিসাও স্থগিত রয়েছে। তবে 'ইনসাইট কান্ট্রি'র ভিজিট ভিসাধারীরা কাজের ভিসা নিতে পারছেন কিংবা ভ্রমণের মেয়াদ বাড়াতে পারছেন। কিন্তু দেশ থেকে আসার মতো নতুন কোনো ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এখন হচ্ছে না।

লুলু টাইপিং সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ ইবরাহিম সমকালকে জানান, আমিরাতে বাংলাদেশিদের জন্য কোনো ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ইস্যু হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে পেশাজীবী (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার), পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ও লেবারদের জন্য নূ্যনতম এইচএসসির মানদণ্ড রেখে তিন ক্যাটাগরিতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা চালু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদের সত্যায়িত কপি দেখাতে হবে।

দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে প্রথম সচিব (শ্রম) ফকির মনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, আমাদের কাছে কাজের ভিসা চালুর কোনো তথ্য আসেনি। তাই আমিরাতে আসতে ইচ্ছুকদের আরও সচেতন হতে হবে।