করোনার কারণে সংকটে পড়া শিল্পের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সংবাদপত্র। এ খাতের মালিকরা সংকট উত্তরণে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি জানিয়েছিলেন। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংবাদপত্র শিল্পের জন্য কোনো ঘোষণা নেই।
সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি, করপোরেট কর হার কমানো, নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে শুল্ক্ক কর প্রত্যাহার, সরকারি সংস্থার বিজ্ঞাপন বিলের বিপরীতে ভ্যাটের চালান দেওয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে। নোয়াবের নেতারা মনে করেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য সংবাদপত্র শিল্পের জরুরিভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
সংবাদপত্রের কাঁচামাল নিউজপ্রিন্ট ও কালি আমদানিতে ভ্যাট, অন্যান্য কর মিলিয়ে ৩০ শতাংশ শুল্ক্ক পরিশোধ করতে হয়। এর মধ্যে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ করে আগাম আয়কর ও আগাম কর রয়েছে। অথচ অন্যান্য শিল্প খাত শূন্য শুল্ক্কে
কাঁচামাল আমদানির সুযোগ পায়। করোনার কারণে সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা কমে গেছে। কয়েকটি পত্রিকা প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। বিজ্ঞাপন আয়ও অনেক কমেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিউজপ্রিন্টের দাম বেড়েছে। এরকম অবস্থায় সংবাদপত্র চালিয়ে নেওয়ার স্বার্থে সবধরনের শুল্ক্ক প্রত্যাহার জরুরি। গত কয়েক বছর ধরে নোয়াব সংবাদপত্রের করপোরেট কর ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের দাবি জানিয়ে আসছে। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা এবং উৎসস্থলে কাঁচামালের ওপর ৫ শতাংশের বদলে অগ্রিম কর শূন্য শতাংশ করা, কর্মীর আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্ত করা এবং বাড়ি ভাড়ার পুরোটাই করমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে নোয়াব। তবে এবারের বাজেটে কোনো দাবিই রাখা হয়নি।
নোয়াব বলেছে, করোনা সংকটে সব খাতই প্রণোদনা, সহায়তা বা ছাড় পেয়েছে। সংবাদপত্র সেবা শিল্প হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

বিষয় : সংবাদপত্রের জন্য কোনো ঘোষণা নেই

মন্তব্য করুন