করোনার অভিঘাত মোকাবিলায় জীবন এবং জীবিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ নেই প্রস্তাবিত বাজেটে। করোনার বাস্তবতা বিবেচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও কর্মসংস্থানে খাতভিত্তিক অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে, অথচ বাজেট এসব খাতের বরাদ্দের সঙ্গে অগ্রাধিকারের ঘোষণার মধ্যে মিল নেই। অন্যদিকে স্বল্প প্রয়োজনীয় কিংবা এখনই প্রয়োজন নেই- এরকম অনেক খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে এই পর্যবেক্ষণ বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেট ২০২১-২২ পরবর্তী পর্যালোচনায় সংস্থাটি তাদের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে বাজেট প্রস্তাবের ওপর সিপিডির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। 

সিপিডির পর্যবেক্ষণে বাজেটের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব হিসেবে ব্যাখা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের গেল ১০ মাসের বাস্তবতার আলোকে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর যে লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে, তা অর্জনযোগ্য নয় বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, করোনার অভিঘাতে দরিদ্রসীমায় যুক্ত হওয়া নুতন দরিদ্রদের জন্য কিছুর রাখা হয়নি। এরকম সামষ্টিক আর্থিক কাঠামোর অন্যান্য ক্ষেত্রেও যথেষ্ট গরমিল রয়েছে।

সিপিডি মনে করে, সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি নির্মূল হয় না, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। বাজেটে রাজস্ব আহরণ এবং ব্যয়ে কোথাও সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমিতির জায়গা থেকে তৈরি করা হয়েছে। এখানে রাজস্ব আদায়ে কাঠামোগত দুর্বলতা আছে। করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তায় কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ বাড়েনি। বরং যেটা বেড়েছে সেটা সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের কারণে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বাড়েনি। করোনাকালে নতুন করে যারা কর্মহীন হয়েছেন বা হচ্ছেন, বাজেটে তাদের বিষয়ে কোনো বরাদ্দের উল্লেখ নেই।'

তিনি আরও বলেন, 'বাজেটে আয়বৈষম্য, ভোগবৈষম্য, সংকটবৈষম্য দূর করার দর্শন আছে। কিন্তু এই বৈষম্য দূর করার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি এতে।'

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। উল্টো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতকে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাতে করে তারা কি বিনিয়োগে আসবে?'

তিনি আরও বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করা উচিত ছিল সরকারের। কারণ সাধারণ মানুষের হাতে টাকা দিলে তারা সেটা খরচ করতেন, এতে অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসত।'